রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কুয়েতকে বিনিয়োগের অনুরোধ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

1692

বাংলাদেশের উদীয়মান বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Special Economic Zone) এবং হাই-টেক পার্কগুলোতে কুয়েতের সরকারি ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বৃহত্তর বিনিয়োগ করার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সাথে কুয়েতের আধুনিক উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং নার্সসহ বিপুল পরিমাণ উচ্চদক্ষ পেশাজীবী নেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের রাজপ্রাসাদ ‘আমিরি দিওয়ান’ বিষয়ক প্রভাবশালী মন্ত্রী শেখ হামাদ জাবের আল-আলী আল-সাবাহ-এর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন এই অনুরোধ জানান।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকটি নিয়ে কুয়েত সিটিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস আজ রোববার (১৪ জুন) একটি বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীরতার সাথে পর্যালোচনা করেন এবং আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিভিন্ন রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের টেবিল বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বড় বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য মেগা প্রকল্পে যৌথ অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়।

বৈঠকে তারা সাম্প্রতিক বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। মধ্যপ্রাচ্য তথা শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রসারের লক্ষ্যে গৃহীত বৈশ্বিক প্রচেষ্টার প্রতি উভয় দেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর সুফি ভাতৃত্ব ও সংহতির বন্ধনের ওপর জোর দেন। তিনি ১৯৭৪ সালে ওআইসি (OIC) শীর্ষ সম্মেলনে বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের একীভূতকরণ ও স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে কুয়েত সরকারের তৎকালীন মূল্যবান কূটনৈতিক সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বমানের ওষুধ (Pharmaceuticals), চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক পণ্যে ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সম্ভাবনার চিত্র কুয়েতি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তৈরি ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কগুলোতে আইটি ও ভারী শিল্পে কুয়েতের বৃহত্তর বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশের কথা উল্লেখ করে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কুয়েতের ‘ভিশন ২০৩৫’ রূপকল্প ও আধুনিক উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের প্রকৌশলী, চিকিৎসক, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নার্সসহ দক্ষ পেশাজীবীদের সরাসরি সরবরাহে কুয়েত সরকারকে বিশেষ কোটা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রত্যুত্তরে কুয়েতের আমিরি দিওয়ান বিষয়ক মন্ত্রী শেখ হামাদ জাবের আল-আলী আল-সাবাহ বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে কুয়েত সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি কুয়েতের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ও কঠোর পরিশ্রমী অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

কুয়েতি মন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে ১৯৯১ সালে ‘উপসাগরীয় যুদ্ধ’ পরবর্তী সময়ে ইরাকি দখলদারিত্ব থেকে কুয়েতের মুক্তির লক্ষে এবং ল্যান্ডমাইন অপসারণে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বর্তমানে কুয়েত সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশ সামরিক কন্টিনজেন্টের (OKP) উচ্চ পেশাগত সহায়তার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রতি কুয়েতের অবিচল কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আগামীতে আরও বহুমাত্রিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

Link copied!