রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়েও বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭৪

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

1694

টপঅর্ডারের ধারাবাহিক ব্যাটিং বিপর্যয় যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সফরকারী শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম কিছু দেখা যায়নি। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর চরম ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র ব্যাটিং চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে সেই কঠিন মহাক্রিটিক্যাল সংকট থেকে টাইগারদের টেনে তোলেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। এই মিডল-অর্ডার ত্রয়ীর তিনটি দুর্দান্ত ফিফটিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।

আজ রোববার (১৪ জুন) মিরপুরের চেনা উইকেটে টস জিতে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে শুরুটা ছিল চরম হতাশাজনক। দলীয় মাত্র ২ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন অভিজ্ঞ ওপেনার সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এর ফলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর তিক্ত ও লজ্জাজনক অভিজ্ঞতা হলো বাংলাদেশের।

সৌম্যর আকস্মিক বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ইনিংস পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিলেও ইনিংস খুব বেশি বড় করতে পারেননি। অজি বোলার ম্যাট রেনশোর স্কিড করা বলে দৃষ্টিকটু স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১৯ রানে থমকে যান তামিম। তার বিদায়ে ভাঙে ৫১ রানের প্রাথমিক জুটি।

তানজিদ তামিমের দেখানো ভুল পথেই হাঁটেন অধিনায়ক শান্তও। স্পিনারদের সুইপ খেলতে গিয়ে অহেতুক উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। ৫০ বলে ২৪ রান করে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফেরেন অধিনায়ক। তাতে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ লিটন দাস ও ইনফর্ম তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে বাইশ গজে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ৯২ রানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জুটি উপহার দেন।

শুরুতে মিরপুরের মন্থর উইকেটে কিছুটা সময় নিয়ে খেললেও ধীরে ধীরে অজি বোলারদের ওপর চড়াও হতে শুরু করেন লিটন। অন্য প্রান্তে তরুণ হৃদয়ও ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি মেরে রানের চাকা সচল রেখে চাপ কমিয়েছেন তিনি। তবে দারুণ ছন্দে থাকা লিটনের ইনিংসে হঠাৎ বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত চোট (Injured)। ব্যক্তিগত ৪৮ রানে পৌঁছে সিঙ্গেল নেওয়ার সময় পায়ের পেশিতে তীব্র টান (Cramps) অনুভব করলে ফিজিওর পরামর্শে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন (রিটায়ার্ড হার্ট) তিনি। তখনও তার নামের পাশে যোগ হয়নি বহু প্রতীক্ষিত মিরপুরের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে লিটনের অভিষেকও হয়েছিল এই মিরপুরেই। এর আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ ২৮টি ওয়ানডে ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটি পাননি তিনি। বিগত পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে কয়েকটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেও ঘরের মাঠে অর্ধশতকের দেখা মেলেনি তাঁর।

লিটনের অবর্তমানে ক্রিজে এসে শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি মেজাজে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তাকে দারুণভাবে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তাওহীদ হৃদয়। দুজনের কাউন্টার অ্যাটাকিং ৯৩ রানের অনবদ্য জুটিতে সম্পূর্ণ ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এই সময় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পূর্ণ করেন তাওহীদ হৃদয়।

ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার পর আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ৮৩ রানের (৮টি চার ও ২টি ছক্কায়) মাথায় আউট হন হৃদয়। তবে তার এই লড়াকু ইনিংসটি বাংলাদেশকে আড়াইশো পার করার মজবুত ভিত গড়ে দেয়। অন্যদিকে, মোসাদ্দেক সৈকত ছিলেন শুরু থেকেই পজিটিভ। অজি পেসারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ৪৩ বলে তুলে নেন নিজের অর্ধশতক। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম এবং চলতি চলতি সিরিজে ব্যাক-টু-ব্যাক দ্বিতীয় ফিফটি। মাঝে অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান ৯ বলে মাত্র ৩ রান করে ফিরলেও শেষ দিকে আর কোনো বড় ধাক্কা খেতে হয়নি স্বাগতিকদের।

ইনিংসের শেষ দিকে চোটের ব্যথা ভুলে ৪টি উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আবারও ব্যাট হাতে কন্ডিশন সামলাতে মাঠে ফেরেন লিটন দাস। ৪৯তম ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত দুই রান নিয়ে পূরণ করেন তাঁর ক্যারিয়ারের বহু প্রতীক্ষিত ও অলক্ষুণে মিরপুরের ফিফটি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক, মিরপুরের মাটিতে প্রথম এবং শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথম ফিফটি।

শেষ পর্যন্ত লিটন ৫৮ (৬৪ বল) ও মোসাদ্দেক ৫৬ (৪৮ বল) রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাদের দুজনের দায়িত্বশীল ও অপরাজিত ব্যাটিং ফিনিশিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর বাঁচা-মরার এই ম্যাচে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৭৫ রান।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট শিকার করেন দুই পেসার জাভিয়ার বার্টলেট ও ম্যাট রেনশো। এছাড়া একটি উইকেট শিকার করেন বেন ডয়ারশুইস।

Link copied!