রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

1693

জাতীয় বাজেটে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি (Renewable Energy) খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হলেও, বাস্তবে এসব সুবিধা কেবল মুষ্টিমেয় ও সীমিতসংখ্যক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)।

আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, সহ-সভাপতি এম এ তাহের, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেলসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, “জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত এসআরও (Statutory Regulatory Order) পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত সব শুল্ক ও কর সুবিধা মূলত নির্দিষ্ট কিছু বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেস্কো (RESCO) মডেলের আওতায় পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (PPA) ভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। এর ফলে দেশের সাধারণ আবাসিক গ্রাহক, কৃষি খাতের সোলার সেচ ব্যবহারকারী, ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহকসহ একটি বিশাল অংশের প্রান্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এবং খাতসংশ্লিষ্ট সাধারণ ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রীয় এই বিশেষ সুবিধা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন।”

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমানে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের সবচেয়ে বড় ও মূল অংশটি গড়ে উঠেছে মূলত সাধারণ আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী, ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব অর্থায়নে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী সাধারণ গ্রাহকদের টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোতে তাদের জন্য কোনো কার্যকর বা প্রত্যক্ষ সুবিধা রাখা হয়নি। বর্তমান বৈষম্যমূলক এসআরও কাঠামোর ফলে সীমিতসংখ্যক সিন্ডিকেট বা রেসকো কোম্পানি লাভবান হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সঙ্গে জড়িত দেশের হাজারো আমদানিকারক, ডিলার ও ইপিসি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।”

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাজেট ঘোষণার পর বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা বা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে—সৌর প্যানেল (Solar Panel) ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রপাতির ওপর থেকে শুল্ক বোধহয় সরকার সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং বাজারে সোলার পণ্যের দাম রাতারাতি কমে গেছে। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ গ্রাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক ও কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই করা হয়নি। এতে একদিকে যেমন বাজারে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম কমানোর জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ও অন্যায্য চাপের মুখে পড়ছেন।

এছাড়া, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সোলার ইরিগেশন’ (সৌর সেচ), সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (BESS) খাতের জন্য কার্যকর নতুন কোনো প্রণোদনা বা বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়নি। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭ লাখ পরিবেশ দূষণকারী ডিজেলচালিত কৃষি সেচ পাম্প থাকলেও, সেগুলোকে পরিবেশবান্ধব সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য কোনো সুস্পষ্ট সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক প্রণোদনা এবারের জাতীয় বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে দেশের গ্রিন এনার্জি খাতকে বাঁচাতে এবং বৈষম্য দূর করতে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করে সংগঠনটি:
১. সোলার মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ডিসি কেবল, কানেক্টর ও স্মার্ট মিটারসহ সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য না রেখে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের জন্য সমান শুল্ক সুবিধা কার্যকর করতে হবে।
২. গ্রিন এনার্জি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য আগামী অন্তত ১০ বছরের জন্য শতভাগ ‘ট্যাক্স হলিডে’ (Tax Holiday) বা কর অবকাশ এবং আয়কর অব্যাহতি প্রদান করতে হবে।
৩. সাধারণ আবাসিক ভবন এবং কৃষি (সোলার সেচ) গ্রাহকদের জন্য কর সুবিধা উন্মুক্ত করতে হবে।
৪. দেশের পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোলার ইরিগেশন, সোলার হোম সিস্টেম, রুফটপ সোলার ও বিইএসএস (BESS) প্রযুক্তিকে অতি দ্রুত ‘জাতীয় অগ্রাধিকার খাত’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

Link copied!