প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
1694
১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কখনো হারেনি ব্রাজিল—দীর্ঘ ৮৮ বছর আর টানা ২০ ম্যাচের সেই সোনালী ধারাবাহিকতা এবারও অক্ষুণ্ন রাখল সেলেসাওরা। তবে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখলেও ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের যাত্রাটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। উত্তর আমেরিকার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শক্তিশালী মরক্কোর রক্ষণাত্মক ও গতিময় ফুটবলের সামনে পয়েন্ট হারিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের।
আজ রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোরে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। টানটান উত্তেজনার ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুটি গোল হয়। ২১ মিনিটে মরক্কোকে স্তব্ধ করে লিড এনে দেন ইসমাইল সাইবারি। তবে ঠিক ১০ মিনিট পর (৩১ মিনিটে) রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। এই ড্রয়ের ফলে টানা ২১টি ও সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড অটুট রাখল সেলেসাওরা। উল্লেখ্য, সবশেষ ৯২ বছর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ব্রাজিল; এরপর থেকে উদ্বোধনী ম্যাচে তারা অপরাজেয়।
নিউ জার্সির গ্যালারি কাঁপানো ম্যাচে প্রথমার্ধের শুরু থেকেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে রীতিমতো চেপে ধরে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো। ম্যাচের রাশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্রাজিলের গোলবার লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে অ্যাটলাস লায়নরা। ব্রাজিলের অভিজ্ঞ রক্ষণভাগ বেশ কয়েকটি আক্রমণ নস্যাৎ করলেও ২১ মিনিটের মাথায় এক চোখধাঁধানো কাউন্টার অ্যাটাক (প্রতি-আক্রমণ) ঠেকানোর কোনো জবাব জানা ছিল না গ্যাব্রিয়েল মাঘালহায়েস ও মার্কুইনোসদের।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঠ কাঁপানো মরক্কোর মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে ডি-বক্সে বল পান উইঙ্গার ইসমাইল সাইবারি। নিখুঁত ও ঠান্ডা মাথার কোণাকুণি শটে ব্রাজিলের বিশ্বসেরা গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান তিনি। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্তব্ধ হয়ে যায় সেলেসাও শিবির।
শুরুর সেই বড় ধাক্কা অবশ্য বেশ দ্রুতই সামলে ওঠে ব্রাজিল। গোল হজম করার পর আক্রমণাত্মক রূপ নেয় তারা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে একক নৈপুণ্যে দলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে নিউক্যাসেল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেজ বক্সের বাঁ প্রান্তে এক দর্শনীয় থ্রু পাস বাড়ান। দ্রুত গতিতে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভিনিসিউস মরক্কোর ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে জোরালো শট নেন। শটের গতি এত বেশি ছিল যে মরক্কোর তারকা গোলরক্ষক ইয়াসিন বনো ন্যূনতম প্রতিক্রিয়া দেখানোরও সুযোগ পাননি। বল সরাসরি জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নিতে এক বছর ধরে ব্রাজিলের ডাগআউটে থাকা ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তি বড় পরিবর্তন আনেন। তিনি অভিজ্ঞ কাসেমিরোকে বেঞ্চে বসিয়ে মাঠে নামান ফ্যাবিনহোকে। ফ্যাবিনহো মাঠে এসে মরক্কোর আক্রমণের গতি কমাতে কিছুটা সক্ষম হলেও, আক্রমণভাগে চেনা ছন্দের ধারালো ব্রাজিলকে আজ দেখা যায়নি। বরং প্রথমার্ধে ৫৪ শতাংশ বল দখলে রাখা ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে ৫২ শতাংশ বল পায়ে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থাকা মরক্কো পুরো ম্যাচেই ব্রাজিলের চোখে চোখ রেখে সমানে সমানে লড়াই করে গেছে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের চেয়ে একটি বেশি, অর্থাৎ মোট ১৪টি শট নিয়েছে মরক্কো। যদিও গোলরক্ষক অ্যালিসনকে বারবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা। বিপরীতে ব্রাজিল অন-টার্গেট বলার মতো শট নিতে পেরেছে মাত্র ৩টি। এর মধ্যে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ বাঁশির আগে লুকাস পাকুয়েতার একটি শট গোল হওয়ার মতো ছিল। আর দ্বিতীয়ার্ধের ৭৮ মিনিটে রাফিনিয়ার উদ্দেশ্যে ভিনিসিউস জুনিয়র একটি দারুণ গোল করার মতো ক্রস দিলেও রাফিনিয়া তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় দু-দলকে।