রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

ছাত্রশিবিরের প্রতি ধিক্কার জানাচ্ছি: রাকিবুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম

1693

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যানার ও মশাল হাতে দাঁড়িয়ে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে এবং ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার বিচারের দাবি

“আমরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এমন নোংরা মানসিকতার প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা ধর্ষণের শিকার এক ভুক্তভোগী নারীর নাম সরাসরি উল্লেখ করে গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিপূর্ণ প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। তারা কথায় কথায় ইসলামের বুলি আউড়ায়, নারীর অধিকার ও সম্মানের কথা বলে; কিন্তু তাদের আসল চরিত্র যে কতটা নোংরা ও ভণ্ডামিতে ভরা—তা তাদের এই কৃতকর্মেই জাতির সামনে প্রকাশ পেয়েছে,” বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যা (গর্ভপাত) করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে এবং ধর্ষণের বিচারের দাবিতে গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সমাবেশে বক্তব্য দানকালে ছাত্রদল সভাপতি এসব কড়া সমালোচনা করেন।

রাতের এই প্রতিবাদ মিছিলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইউনিটের কয়েক হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মিছিল থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘মুনাফেকি আর ভণ্ডামি, চলবে না চলবে না’, ‘ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আমির থেকে সমর্থক, সব শালারা ধর্ষক’—ইত্যাদি ঝাঁজালো স্লোগানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন।

সমাবেশে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমির, তাদের নির্বাচিত এমপিরা এবং শিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতারা গত দুদিন ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েছে যে—দেশে নাকি আবারও পুরোনো ‘গুমের সংস্কৃতি’ চালু হয়েছে। জিসান মিয়া নামের এক চিহ্নিত ধর্ষক ও অপরাধীকে আড়াল করতে তারা রাষ্ট্র ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গুমের নাটক সাজিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত দুটি বছর যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ (উত্তেজিত জনতা) উস্কে দিয়েছে, সশরীরে মবের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অব্যাহত প্রোপাগান্ডা, নোংরামি ও মিথ্যাচার ছড়িয়েছে, তাদের প্রতি আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। তারা যেভাবে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ‘গুম’–এর মতো ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় অপরাধকে হালকা বা নরমালাইজ করতে চাচ্ছে, তাতে আমরা চরম শঙ্কিত। তাদের এই নোংরা নাটকের মাধ্যমে খুনি হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের আমলে আমাদের যে শত শত ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মী চিরতরে গুমের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মহান আত্মত্যাগের প্রতি চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অপমান প্রদর্শন করা হয়েছে।”

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, “বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সবকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনলাইন গ্রুপ ও ফেসবুক পেজগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দখল করে তারা দিনরাত প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও সহনশীল পরিবেশ নষ্ট করছে। আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনারা কি সত্যিই ইসলামের নামে পবিত্র রাজনীতি করেন? তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় যে নোংরা ও সাইবার ট্রোলিংয়ের রাজনীতি শুরু করেছে, তার চূড়ান্ত সুযোগ নিচ্ছে রাজপথ থেকে বিতাড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ।”

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির জামায়াত ও শিবিরের ‘গুপ্ত কমিটি’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “কুমিল্লাতে পুলিশ যে কুখ্যাত ধর্ষককে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে, সেই ধর্ষকের নাম কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো প্রকাশ্য কমিটিতে ছিল না। কারণ তারা তো তাদের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিই সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করে না, গোপনে ‘গুপ্ত কমিটি’ দিয়ে সংগঠন চালায়। অথচ শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে—প্রেম করার অপরাধে নাকি জিসানকে তারা সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে! আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, প্রেম নয়, জিসান একজন ধর্ষক এবং ভ্রূণ হত্যাকারী; আর শিবির সেই জঘন্য অপরাধের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিচার না করে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে।”

জামায়াত আমিরের সমালোচনা করে নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, “একটি ধর্ষণ মামলার আসামিকে বাঁচাতে গুমের নাটক মঞ্চস্থ করে তারা অতীতে সংঘটিত প্রকৃত গুমের শিকার পরিবারগুলোকে চরমভাবে অপদস্থ করেছে। যখনই তাদের কোনো নেতা অপরাধ করে ধরা পড়ে, তখনই জামায়াতের আমির তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ‘গুমের মিথ্যা নাটক’ লিখে পোস্ট করেন। যাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কাণ্ডজ্ঞান সাধারণ সীমারেখারও নিচে, তিনি কীভাবে একটি দলের আমির হতে পারেন—তা আমাদের বোধগম্য নয়। গত ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশে যত ধরনের গুজব ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তার সিংহভাগই ছড়িয়েছেন স্বোদলীয় স্বার্থান্বেষী জামায়াতের আমির।”

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ধর্ষক জিসান মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ইন্টারনেটে ভুক্তভোগী নারীর নাম ছড়িয়ে দেওয়া শিবির সাইবার সেলের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

Link copied!