শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

‘গত ১৭ বছরে দিল্লির গোলামি আপনারা কম করেননি’: বিএনপিকে ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

1692

ব্যারিস্টার ফুয়াদ

“বিগত ১৭টি বছর দিল্লির গোলামি আপনারা নিজেরাও কম করেননি। আপনাদের বড় বড় মন্ত্রী-নেতারা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পায়ে গিয়ে অর্ঘ্য দিয়ে এসেছেন, নত মস্তকে সেজদা করে এসেছেন। এত কিছুর পরও দিল্লি শেষ পর্যন্ত আপনাদের বিশ্বাস করেনি। এই অতীত ইতিহাস থেকে যদি আপনারা এখনো ন্যূনতম শিক্ষা না নেন, তবে দেশের মানুষ ধরে নেবে—আপনারা আদতে একটুও বদলাননি,” বলে নবগঠিত বিএনপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে জাতীয় গণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন, চলমান তীব্র জনদুর্ভোগ নিরসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বিএনপির দীর্ঘ নির্বাসন ও বর্তমান ক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর দেশের জনগণের ধারণা হয়েছিল—প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সিনিয়র মন্ত্রীদের নিয়ে দেশে যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, তারা হয়তো তাদের অতীত ভোগান্তি ও রাজনৈতিক ভুল থেকে বড় কোনো শিক্ষা নিয়েছেন। কেন তারা এত দীর্ঘ সময় আন্দোলন করেও ক্ষমতায় আসতে পারেননি, ঠিক কী কী সুনির্দিষ্ট কারণে গত ২০ বছরে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হারিয়ে বাংলাদেশ প্রায় একটি ভ্যাসাল স্টেটে (দিল্লির আশ্রিত রাজ্য) পরিণত হয়েছিল, এবং কোন কারণে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ বিগত ১৭ বছর আপনাদের একাংশের নেতৃত্বে ডাকা আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেনি—এসব মৌলিক বিষয় আপনারা ক্ষমতা পেয়ে উপলব্ধি করেছেন বলেই আমরা মনে করেছিলাম।”

প্রযুক্তিগত উপমা দিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক চিন্তাধারার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আপনাদের হাতের অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিংবা আইফোনের আইওএস (iOS) সফটওয়্যার যেমন আপডেট হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে নতুন বাংলাদেশের সাথে মিল রেখে আপনাদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাও আপডেট ও আধুনিক হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আপনাদের বর্তমান মন্ত্রীদের লাগামহীন বক্তব্য ও দাম্ভিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে—আপনারা ২০০৬ সালে ব্যাকডেটেড কম্পিউটারটি বন্ধ করে গ্যারেজে রেখে গিয়েছিলেন; ২০ বছর পর ক্ষমতায় এসে সেই একই কম্পিউটার চালু করেছেন। সেই কম্পিউটারে এত বেশি ধুলাবালি ও ভাইরাস জমেছে যে, এখন আর মুছে বা ফরম্যাট করেও সেটিকে সংশোধন করা যাচ্ছে না।”

এবি পার্টির এই শীর্ষ নেতা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ পুরোপুরি বদলে গেছে, কিন্তু আপনাদের পুরোনো স্বৈরাচারী স্বভাব বদলায়নি। ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী লীগেরও ১৭ বছরে লেজ সোজা হয়নি, তবে দেশের ছাত্র-জনতা ভালো করেই জানে কীভাবে সেই লেজ সোজা করতে হয়। বাংলাদেশের মানুষকে দয়া করে নতুন করে গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। এটি যদি করেন, তবে তা নতুন সরকারের জন্যও ভালো হবে না, আর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।”

উল্লেখ্য, ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের এই বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

Link copied!