প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
1693
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন মাতামুহুরী উপজেলার উদ্বোধনী ফলকের লাল পর্দা উন্মোচন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও নতুন মাতামুহুরী উপজেলার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে পর্যটন জেলা কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার কাঠামো ও গ্রামীণ প্রশাসনিক বিন্যাসে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় এক বর্ণাঢ্য রাষ্ট্রীয় সফরকালে তিনি এই নতুন পৌরসভা ও প্রশাসনিক উপজেলার ফলক উন্মোচন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
কক্সবাজার জেলা ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনসহ সাধারণ নাগরিকদের মতে, নতুন এই প্রশাসনিক অঞ্চল ঘোষণা এবং সরকারপ্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে পেকুয়া, চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ জনপদ জুড়ে এখন এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও উপকূলীয় এই অঞ্চলে নতুন দুটি বড় প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকার ইউনিট গঠনের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নগর সুশাসনের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
উচ্ছ্বসিত পেকুয়া ও মাতামুহুরী অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দারা জানান, নতুন চকরিয়া ভেঙে মাতামুহুরী উপজেলা এবং পেকুয়া সদরকে পৌরসভা গঠন করা এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষের যুগান্তকারী ও দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল; যা আজ সরকারপ্রধানের সরাসরি হস্তক্ষেপে বাস্তবরূপ পেল। এই অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামো, গ্রামীণ যোগাযোগ এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চিরস্মরণীয় ও এক বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করছেন তারা।
স্থানীয় সুধী সমাজ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা জানান, পূর্ণাঙ্গ পৌরসভা ও উপজেলা গঠনের ফলে পেকুয়া, চকরিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের বিশাল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, যেমন— উন্নত পরিকল্পিত রাস্তাঘাট, পরিকল্পিত সুয়ারেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং দ্রুততম সময়ে নাগরিক সেবা প্রাপ্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হবে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সাধারণ প্রান্তিক মানুষকে এখন আর সামান্য কাজের জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে দূরবর্তী পুরোনো প্রশাসনিক বা জেলা কেন্দ্রে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হবে না। এতে করে সরাসরি সরকারি সেবা শতভাগ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে এবং অবহেলিত এই জনপদে শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পেকুয়া জুড়ে নিশ্ছিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।