প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
1694
১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
“দেশের মূলধারার গণমাধ্যম বা মিডিয়া আর এখন প্রকৃত অর্থে গণমাধ্যম নেই। এটি দুঃখজনকভাবে বড় বড় করপোরেট ও বিজনেস হাউজের (ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান) স্বার্থরক্ষাকারী প্রতিনিধি হয়ে গেছে,” বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের স্মরণে আয়োজিত এক দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা দীর্ঘভাবে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “শহীদ জিয়া সেই কঠিন সময়েও একটি সুনির্দিষ্ট দর্শনে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন—তা হলো ‘গণতন্ত্রই হচ্ছে জনগণের জন্য সবচেয়ে উত্তম ও টেকসই শাসন ব্যবস্থা’। যদিও তিনি বলতেন এটিই একমাত্র নয়, তবে এটি একটি অনন্য উত্তম ব্যবস্থা। তিনি তৃণমূলের মানুষকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করতে পেরেছিলেন। বিএনপি একটি সত্যিকার অর্থেই গণমানুষের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এটি একটি লিবারেল ডেমোক্রেসি বা উদারপন্থি রাজনৈতিক দল, কোনো রেজিমেন্টেড বা চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক দল নয়। সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের মিলনমেলা হলো এই দল।”
ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “১৯৭৪ সালে দেশে যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, শহীদ জিয়া তখন সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বুক ফুলিয়ে এসে বলেছিলেন—এই দুর্ভিক্ষ প্রাকৃতিকভাবে হয়নি, এটি ছিল ‘ম্যান-মেড’ বা মানুষ সৃষ্ট। অর্থাৎ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণেই সেই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যেখানে লাখ লাখ মানুষ না খেতে পেয়ে রাস্তায় মারা গিয়েছিল। শহীদ জিয়া এসে দেশকে সেই খাদ্যসংকট ও তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে মুক্ত করেছিলেন।”
দেশের টেকসই কৃষি গবেষণার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকের যে বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BRRI), জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কিংবা সুগারক্যান রিসার্চ ইনস্টিটিউট—এর প্রত্যেকটির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ও কাঠামোগত উন্নয়নে চোখ রাখলে দেখতে পাবেন, সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এক বিশাল দূরদর্শী অবদান রয়েছে। তাঁর সময়কালীন গতিশীল কূটনীতির কারণেই তৎকালীন পরাশক্তি জাপানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) মর্যাদাপূর্ণ অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এমনকি বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের পিসকিপিং বা শান্তিরক্ষা মিশনে (UN Peacekeeping) বাংলাদেশি সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রেও তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও দূরদৃষ্টি আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।”
বক্তব্যের শেষাংশে গণমাধ্যমের বর্তমান ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “মিডিয়া আর এখন নিরপেক্ষ মিডিয়া নেই। এটি এখন বিভিন্ন বিজনেস হাউজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছে। চাটুকারিতা কাকে বলে, তা বিগত শাসনামলে এই মিডিয়ার একাংশের ভূমিকা দেখলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আমরা গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের শাসনামলে দেখেছি কীভাবে একশ্রেণীর মিডিয়া সত্যকে আড়াল করে চাটুকারিতা ও দালালি করেছে।”
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করবো, জুলাই বিপ্লবের পর স্বাধীন বাংলাদেশে আপনারা এখন সেই দাসত্ব ও চাটুকারিতার বৃত্ত থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে এসেছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপনারা যে সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছেন, এখন স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশের মাধ্যমে সেটিকে দেশের কল্যাণে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাবেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সব সময় আপনাদের পাশে আছে।”
জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।