প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
1701
১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সফলভাবে অর্জনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন অংশীদার, শিক্ষাঙ্গণ, নাগরিক সমাজ সংগঠন, বেসরকারি খাত এবং যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন দেশের শীর্ষ নীতি নির্ধারক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বিআইআইএসএস এবং জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস) যৌথভাবে ‘তরুণ নেতৃত্ব, টেকসই ভবিষ্যৎ: একসঙ্গে এসডিজি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক এই সেমিনারটির আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমসটেক (BIMSTEC) মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর, নতুন নতুন ধারণা এবং ভবিষ্যৎ আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের সব ধরনের উন্নয়ন কৌশল এবং উদ্যোগে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত; তা দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন উদ্যোগ হোক, দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা হোক কিংবা আঞ্চলিক সহযোগিতাই হোক।
তিনি সেমিনারে অংশ নেওয়া সব তরুণকে গতানুগতিক চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করা অব্যাহত রাখতে, আধুনিক উদ্ভাবনকে গ্রহণ করতে এবং বিভিন্ন খাত ও সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিমসটেক অঞ্চল জুড়ে অভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং যুব সম্পৃক্ততার অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সেমিনারে দেশের নীতি নির্ধারক, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষাবিদ, যুব নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তরুণরা কীভাবে একটি রূপান্তরমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে দুটি তথ্যবহুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিআইআইএসএস-এর রিসার্চ ফেলো রাফিদ আবরার মিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বাজেট ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম তাদের যৌথ উপস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি অর্জনে যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবন এবং নীতি নির্ধারণী সম্পৃক্ততার ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান। তিনি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন যাত্রায় মূল অংশীদার হিসেবে তরুণ সমাজকে ক্ষমতায়ন করার ওপর জোর দেন। তিনি এমন একটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যেখানে তরুণরা নীতি আলোচনা, নতুন উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি উন্নয়নে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর (এসডিজি অ্যাফেয়ার্স) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।
সেমিনারে অপর এক স্বাগত বক্তব্যে ইউএনওপিএস (UNOPS) বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরণ টেকসই উন্নয়নের জন্য যুব সম্পৃক্ততা, এসডিজি স্থানীয়করণ এবং বহু-অংশীজন অংশীদারিত্বকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইউএনওপিএস-এর বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তরুণরা কেবল উন্নয়নের নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগীই নয়, বরং তারা যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার এবং মূল চালিকাশক্তি। ২০৩০ অ্যাজেন্ডার অভিমুখে বৈশ্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে যুব নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকার এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুব দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দেশের এসডিজি স্থানীয়করণ প্রচেষ্টায় যুবকদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করতে এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নকারী সব ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।