প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
1711
১৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ এএম
ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন
প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির নারায়ণগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি জালিয়াতি, অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং গ্রাহকদের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের কারণে দেশের ২৬টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডয়েস ল্যান্ড অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার কিছু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে বিভিন্ন কোম্পানির নামে অজান্তেই বিপুল পরিমাণ আর্থিক দায় সৃষ্টি করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া সেলস কন্ট্রাক্ট তৈরি করে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলা হয়েছে, যেখানে বাস্তবে কোনো কাঁচামাল সরবরাহ করা হয়নি। পরবর্তীতে ওই এলসির বিপরীতে দায় দেখিয়ে চলতি হিসাবের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে ডলার ক্রয় করা হয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বাজারদরের চেয়ে প্রতি ডলারে ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ নীতিমালা লঙ্ঘন করে একাধিক চলতি হিসাব ও ঋণ সৃষ্টি করে এলসি সমন্বয় করা হয়েছে। পরে একতরফাভাবে ফোর্সড লোন ও ডিমান্ড লোন তৈরি করে বিপুল পরিমাণ সুদ আরোপ করা হয়, যা গ্রাহকদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বারবার হিসাব বিবরণী চাওয়া হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে ফাঁকা চেক ব্যবহার করে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তাদের দাবি, পুনঃতফসিলের শর্তে স্বাক্ষর না করলে এলসি ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়, যার ফলে কারখানার কার্যক্রম ও শ্রমিকদের বেতন ঝুঁকিতে পড়ে যায়।
অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে পুনঃতফসিলে রাজি হলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংক তা বাতিল করে দেয়। ফলে ২৩টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে তারা জানান।
ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের চাপ ও ঋণসংক্রান্ত মানসিক উদ্বেগের কারণে কয়েকজন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
তাদের দাবি, ২০২৪ সালে হঠাৎ করে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেখানো হয়, যা প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ২৬টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং স্বনামধন্য অডিট ফার্মের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।