শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

ইসলামী ব্যাংকের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস, আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান গভর্নরের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

1700

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের পূর্ণ আশ্বস্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, "গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন ও আইনি টুলস রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের ভয়ের কিছু নেই, তাঁদের কোনো অসুবিধা হবে না এবং তাঁরা ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে যেকোনো সময় নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের টাকা তুলতে পারবেন।"

আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-উত্তর ঐতিহ্যবাহী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন।

ইসলামী ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের 'অবৈধ হস্তক্ষেপ' করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন গভর্নর। তিনি সাম্প্রতিক রদবদল নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "বিগত অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিশেষ বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমরা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি বা প্রমোশনের (পদোন্নতি) বিষয়ে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করিনি।"

তিনি উদ্ভূত সংকটের নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে আরও জানান, "পবিত্র ঈদুল আজহার ঠিক আগের দিন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান হঠাৎ পদত্যাগ করেন। একটি ব্যাংকের শীর্ষ পদ শূন্য রাখা যায় না বিধায় আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। আর এই নতুন নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের ভেতরের ও বাইরের একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ব্যাংকের সার্বিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।"

তবে ব্যাংকটির বর্তমান ঋণ বা বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তাকুর রহমান বলেন, "২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইসলামী ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রেশিও (বিনিয়োগ-আমানত অনুপাত) ছিল ৯৩ শতাংশের মতো, যা চলতি বছরের মার্চে এসে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে। অথচ ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। এই ঘাটতি ও তারল্য সংকট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে ইসলামী ব্যাংককে বিশেষ তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে।"

দেশের ব্যাংক খাতের সামগ্রিক ভঙ্গুর দশা ও সংস্কারের বিষয়ে গভর্নর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমের 'ওয়ান থার্ড' বা এক-তৃতীয়াংশ ডিপোজিট (আমানত) একপ্রকার চুরি বা লুটপাট হয়ে গেছে। এই রকম একটি পঙ্গু হয়ে পড়া ব্যাংকিং সিস্টেমকে পুনর্গঠন ও স্থিতিশীল করতে হলে দেশের মানুষ ও গ্রাহকদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই বিশাল সমস্যাগুলো আমরা রাতারাতি নয়, বরং পর্যায়ক্রমে আইনি সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করছি।"

সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (NBFI) টাকা আটকে থাকা ভুক্তভোগী আমানতকারীদের জন্য একটি বড় সুখবর দেন গভর্নর। তিনি ঘোষণা করেন, "আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে চরম সমস্যাগ্রস্ত ও অবসায়নের তালিকায় থাকা কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ উদ্ধার কার্যক্রম (স্পেশাল অ্যাকশন) শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা ধাপে ধাপে তাঁদের আসল টাকা ফেরত পাওয়া শুরু করবেন।"

Link copied!