শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

আদ্-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:১৪ এএম

1700

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এসি বন্ধ থাকা এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তদন্ত প্রতিবেদনে অবহেলা ও দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি জানান, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মন্ত্রী জানান, ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শেষে দুপুরে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা এবং সংশ্লিষ্ট নার্স ও কর্মীদের অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে দায় ও অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। যে পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ইতোমধ্যে সিলগালা করা হয়েছে। তবে হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুরো হাসপাতাল বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অব্যবস্থাপনা রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কঠোর নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শন, আইন প্রয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করতে তদন্ত কমিটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে পরিবেশগত অনুমোদন, ভবনের নিরাপত্তা যাচাই এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রণালয় এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ছয় নবজাতকের মৃত্যুকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি ঘটনা এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার পর স্বজনরা আবেগতাড়িত হয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুদের মরদেহ নিয়ে গেছেন। তবে ঘটনার বিভিন্ন প্রমাণ, প্রত্যক্ষ তথ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ছিল না। সীমিত আয়তনের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় কক্ষের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে সেখানে থাকা নবজাতকদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!