শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ১১:০৪ এএম

1705

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হচ্ছে। তিনি এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’-কে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যে থাকা নিকোটিন মানুষের মধ্যে মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ বিভিন্ন ধরনের তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব পণ্য অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি আরও বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য। তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার এ ধরনের রোগের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত। পাশাপাশি তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তামাক ব্যবহারের ফলে শুধু স্বাস্থ্যগত ক্ষতিই নয়, অর্থনীতিতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পরিবেশের ক্ষতি, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং বিদ্যমান আইনকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন সংশোধনী ও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক ও চলচ্চিত্রসহ সব ধরনের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আড়ালে পরিচালিত তামাক কোম্পানির প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান এবং শিশু পার্কের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারও আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কঠোরতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে একটি স্বাস্থ্যবান ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন তিনি।

 

 

Link copied!