শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ এএম

ঢামেক হাসপাতালে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন: পরিদর্শনে ডা. রফিকুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

1696

অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখছেন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ব্রেইন-ডেড বা মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস এবং কর্নিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এ পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।

তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে জীবিত দাতার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অঙ্গ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সেসব পরিস্থিতিতে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগীদের জন্য কার্যকর ও জীবনরক্ষাকারী সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে।

ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ক্যাডাভারিক কিডনি প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ওই সময়ে ব্রেইন-ডেড রোগীর শরীর থেকে সংগৃহীত কিডনি দুইজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে এখনো দেশে নিয়মিত ও সুসংগঠিত ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে এ ধরনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কম হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, জনসচেতনতার অভাব, হাসপাতালের সীমিত অবকাঠামো, প্রশাসনিক ও আইনগত জটিলতা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থার অনুপস্থিতি অন্যতম।

অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম মনে করেন, নতুন মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫ দেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ইমোশনাল ডোনার এবং জাতীয় সোয়াপ রেজিস্ট্রি চালু করা গেলে প্রতি বছর হাজারো মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন আইন কঠোর নৈতিক মানদণ্ড বজায় রেখে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করবে। এর ফলে দেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং শেষ পর্যায়ের অঙ্গ বিকলতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Link copied!