সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

অবশেষে চালু হলো শেরপুর জেলা হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

1693

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা আর চরম অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হলো শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ইউনিট। গত ৭ জুন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা শেরপুরের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থা নিয়ে একটি ঝাঁজালো বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ে গত ১৪ জুন (রোববার) দেশের আরও নয়টি হাসপাতালের সাথে শেরপুর জেলা হাসপাতালের এই আইসিইউ ইউনিটটি ভার্চ্যুয়ালি (অনলাইন মাধ্যমে) উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

পরবর্তীতে ওই দিন বিকেলেই শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে অত্যাধুনিক ১০ শয্যার (বেড) এই আইসিইউ ইউনিটটির কার্যক্রম জনসাধারণের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত করেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহিন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেলিম মিয়া, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদলসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।

জেলা হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, বিগত ২০২১ সালে করোনা মহামারিকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের নবম তলায় এই আধুনিক আইসিইউ ইউনিটটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, স্থাপন করার পর থেকেই প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত লোকবল (চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান) সংকটসহ নানা আমলাতান্ত্রিক কারণে দীর্ঘ দিন ধরে কোটি কোটি টাকার এই চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় ধুলোবালি মেখে পড়েছিল।

পরবর্তীতে গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি বক্তব্যে শেরপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চরম দুরবস্থা ও তীব্র লোকবল সংকটের কথা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে সংসদে বলেন, “শেরপুরের মানুষ আইসিইউ সেবা পাবে কী, শেরপুর জেলা হাসপাতালই এখন নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।”

তরুণ এই সংসদ সদস্যের এমন বাস্তবধর্মী ও ক্ষুরধার বক্তব্যটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয় এবং দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের খবরের শিরোনাম হয়। বিষয়টি নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নজরে আসলে তিনি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তিনি দ্রুত বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতালের জন্য প্রেষণে লোকবল সংকটের সমাধান করেন এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মাথায় আইসিইউ ইউনিটটি চালু করার অবিশ্বাস্য দ্রুত ব্যবস্থা করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিইউ ইউনিট চালুর পর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, শেরপুর জেলা হাসপাতালের অন্যান্য যেসব যৌক্তিক সমস্যা ও এক্স-রে বা প্যাথলজি বিভাগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে খুব দ্রুত সমাধান করা হবে।

আইসিইউ চালুর পর এক প্রতিক্রিয়ায় ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এমপি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, “শেরপুরের সাধারণ জনগণের সামনে আমার স্পষ্ট নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল যে, সংসদে প্রথম দিন সুযোগ পেলেই আমি আমাদের জেলা হাসপাতাল নিয়ে কথা বলব। সে মোতাবেক আমি সংসদে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলা এবং আইসিইউ ইউনিট চালুর দাবি জানালে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয় সংসদ অধিবেশন শেষেই আমাকে একটি লিখিত আবেদন জমা দিতে বলেন। আমি দ্রুত লিখিত আবেদন দেওয়ার পর তিনি মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের শেরপুরের আইসিইউ ইউনিটটি প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্স নিয়োগসহ উদ্বোধনের ব্যবস্থা করেন। আমি মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। আগামীতেও শেরপুরের স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রান্তিক মানুষের সব সমস্যা সমাধানে আমি রাজপথে ও সংসদে সোচ্চার থাকব।”

Link copied!