সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

গণমাধ্যমকে নিখুঁত করার দায়িত্ব গণমাধ্যমকেই নিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

1693

ঢাকার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল সেমিনার

গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ নিখুঁত ও নির্ভীক করে গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব গণমাধ্যমকেই নিজের কাঁধে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন যে গণমাধ্যম হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের আসল আয়না। সেই আয়না যত বেশি নিখুঁত হবে সমাজের ভেতরের চেহারা তত বেশি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এই কথা বলেন। বাকশালি শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস উপলক্ষে ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন যে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতার কথা বলতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সমাজে বহু মতের সহাবস্থানের প্রশ্নটি সামনে আসে। আর দায়িত্বশীলতার কথা বলতে গেলে সবার আগে আসে জবাবদিহির প্রশ্ন। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারার কারণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম এতদিনেও একটি শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে এই দীর্ঘকালীন ব্যর্থতার দায় বিগত সরকারগুলোকেই বহন করতে হবে।

ইতিমধ্যে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সব পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন যে এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সব পক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করা। এই আলোচনায় সবার লক্ষ্য ও মূল উপসংহারে তেমন কোনো বড় পার্থক্য খুঁজে পাননি বলেও জানান তিনি। এই গভীর ঐকমত্যকেই নতুন স্বাধীন কমিশন গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী।

অতীতে সম্মিলিতভাবে ভিন্নমত চর্চার সুন্দর সংস্কৃতিকে কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায়নি উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন যে ভিন্নমতকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর মধ্যে এনে এবং এর ভেতরের তর্ক বিতর্কের প্রতিযোগিতাকে দেশের প্রগতির উপাদানে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন যে দেশ এবং মানবতার সামগ্রিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে দেশের মাটিতে কখনো সুস্থ গণতন্ত্রের চর্চা করা সম্ভব হবে না।

আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সফল উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাজ্যের অফকম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের এফসিসি এবং ইউরোপের বিভিন্ন স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মতো বাংলাদেশেও একটি গ্রহণযোগ্য ও সবার অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে এইসব শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেমন গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় ঠিক তেমনি তাদের দায়িত্বশীলতার সীমারেখাও সুন্দরভাবে নির্ধারিত থাকে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান। তিনি তাঁর প্রবন্ধে দেশের গণমাধ্যম পুনর্গঠনে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে আর কোনো সময়ক্ষেপণ না করার জোরালো পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী আমলে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের ঢালাও মামলাগুলো সঠিকভাবে পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা এবং অতীতে বিলুপ্ত হওয়া প্রেস ট্রাস্ট পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানান। সেই সাথে সম্পাদকদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টনে সুষমতা আনা এবং সংবাদপত্রের কাগজের ওপর কর কমানোর দাবিও জানানো হয়।

এইসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন যে এই রকম একটি লিখিত সম্মিলিত ও সর্বসম্মত বক্তব্য পাওয়ায় বর্তমানে চলমান স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করার সরকারি তৎপরতা অনেক বেশি বেগবান হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এতে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। এছাড়া নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন বাবর এবং মানবকণ্ঠ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন এবং দ্য ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ বিশিষ্ট সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন। পুরো সেমিনারটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

Link copied!