সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কৃষি ও মৎস্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

1692

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়ন সংক্রান্ত জাতীয় কর্মশালা সেমিনার

দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন যে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই কারণে খাতগুলোতে সরকারের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। বরাদ্দ করা সরকারি অর্থ কতটুকু কার্যকরভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরি করাসহ গ্রামীণ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে সে বিষয়ে যেকোনো গবেষণা ও সঠিক মূল্যায়নকে সরকার সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। কারণ তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সরকারের নীতি নির্ধারণে সবচেয়ে কার্যকর সহায়তা দেয়।

মন্ত্রী জানান যে সরকার দেশের কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ২০২৬ এবং ২০২৭ অর্থবছরের নতুন জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করেছে। কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনশীল ও লাভজনক করার পাশাপাশি একটি টেকসই খাতে পরিণত করতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সাথে পাটবীজ ও পেঁয়াজের বীজসহ আদা উৎপাদনে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা এবং মাটির অম্লতা কমিয়ে সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করার মাধ্যমে চাষাবাদে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনার বড় পরিকল্পনাও সরকার মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন যে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ফসল রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং কৃষি পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার বর্তমানে বিভিন্ন সময়োপযোগী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে মাঠপর্যায়ে পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য বিশেষ বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি সরবরাহ করা এবং ফল ও সবজি নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে গ্রামীণ এলাকায় ছোট আকারের হিমাগার স্থাপন করা। এছাড়া বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ করা এবং চুক্তিভিত্তিক উন্নত পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করাসহ ডিজিটাল কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা এবং খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন যে দেশের উৎপাদিত আম ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল এবং সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে আরও বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং আধুনিক মোড়কজাতকরণ কেন্দ্র ও বিশেষ শোধন কেন্দ্র স্থাপন করাসহ সব ধরনের সেবা এক স্থান থেকে নিশ্চিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের মান ও প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন যে প্রান্তিক কৃষক যাতে কষ্টের ফসলের ন্যায্যমূল্য সহজে পায় সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বাজারে চাহিদার প্রকৃত তথ্য আগে থেকে জানা না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। দেশ আগামী দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি করার নির্ভরতা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের মাটিতে আদা ও রসুন উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে পাট ও পেঁয়াজ বীজের বৈদেশিক আমদানি নির্ভরতা থেকেও পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।

Link copied!