সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘বিচারবুদ্ধি নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

1695

বিশ্ব রাজনীতির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও বহুল আলোচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে। শান্তি প্রক্রিয়ার মুখে ছাই ঢেলে দেওয়া এই আকস্মিক সামরিক পদক্ষেপের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তীব্র অসন্তোষ ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-কে দেওয়া একটি বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকার এবং নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ (Truth Social) দেওয়া একাধিক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন—চুক্তি সইয়ের মাত্র এক ঘণ্টা আগে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা তিনি কোনোভাবেই প্রত্যাশা করেননি এবং নেতানিয়াহুর এমন খামখেয়ালিপনায় তিনি গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

টেলিফোন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর ভাষায় বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার ঠিক ৬০ মিনিট আগে লেবাননে এমন বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সার্বিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে চরম জটিল করে তুলেছে। তিনি সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করে একে “খুবই দুর্বল রাজনৈতিক বিচক্ষণতা” এবং “বিচারবুদ্ধিহীন কাজ” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইঙ্গিত দেন যে, তেল আবিবের এ ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিশ্ব কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বিস্ফোরক ও নজিরবিহীন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের ঘরোয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল ও উপদেষ্টারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত বড় রকমের একটি ‘কূটনৈতিক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি’ হিসেবে দেখছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখনো পর্যন্ত ইসরায়েলি সরকারি বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা চিরতরে প্রশমনে এবং ইরানের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী পরমাণু ও অর্থনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত করতে দিনরাত ব্যস্ত ছিল, ঠিক সেই সময়ে লেবাননের ওপর ইসরায়েলের এই বিমান হামলা ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কের ভেতরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত চাপ ও ফাটলকে বিশ্ববাসীর সামনে পুরোপুরি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

তবে উদ্ভূত উত্তেজনার মধ্যেই পরবর্তীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করে নিশ্চিত করেন যে, ইসরায়েলি হামলার উস্কানি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে মার্কিন চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি আগামী শুক্রবার ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, এই দ্বিপাক্ষিক ঐতিহাসিক সমঝোতার ফলে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে চিরতরে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক অভূতপূর্ব ও শান্তিময় ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান সমর্থিত লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র পক্ষ থেকে তীব্র পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ও প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা দিতে পারে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

Link copied!