সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

সংসদে মনিরুল হকের বক্তব্যে নিন্দা ও প্রতিবাদ গোলাম পরওয়ারের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম

1697

মিয়া গোলাম পরওয়ার।

“জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘পর্দা’ এবং সম্মানিত নারী সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে যে আপত্তিকর, অবমাননাকর এবং চরম কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,” বলে এক কড়া বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গতকাল রোববার (১৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “পর্দা ইসলামের একটি অন্যতম প্রধান ও ফরজ বিধান। এই মহান, পবিত্র ও সংবেদনশীল বিধান নিয়ে জাতীয় সংসদের মতো একটি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ও পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে মনিরুল হক চৌধুরী যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত এবং দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের ধর্মীয় অনুভুতি ও হৃদয়ে চরম আঘাত হানার শামিল।”

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বাজেট আলোচনার নির্ধারিত দেশীয় ও অর্থনৈতিক বিষয়বস্তু থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে ২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের সম্পূর্ণ মনগড়া, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন গল্প টেনে আনেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি সংসদে উপস্থিত সম্মানিত নারী সংসদ সদস্যদের সরাসরি ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক, সাজসজ্জা ও পবিত্র পর্দা নিয়ে চরম আপত্তিকর, অশালীন ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। একজন আইনপ্রণেতা এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদের মুখ থেকে পবিত্র সংসদ অধিবেশনে এ জাতীয় অসংযত বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে পবিত্র সংসদের ভেতরে সরকারি ও বিরোধী দলের সাধারণ সংসদ সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয় এবং পুরো অধিবেশন কক্ষে এক নজিরবিহীন হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবতারণা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংসদের শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎকালীন সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে কঠোর ভাষায় তাকে সতর্ক করতে হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার স্পষ্ট ভাষায় বলতে বাধ্য হয়েছেন যে এই মহান সংসদ কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পোশাক নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়।’ আমরা সংসদের মর্যাদা ও নারীদের সম্মান রক্ষায় স্পিকারের এই কঠোর ও সময়োপযোগী অবস্থান এবং বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্যটি সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে চিরতরে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।”

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে ইসলামের একটি মৌলিক বিধান এবং সম্মানিত নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার যে অপপ্রয়াস মনিরুল হক চৌধুরী চালিয়েছেন, তা মূলত তার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, নীতিহীনতা ও সংকীর্ণ মানসিকতারই স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। একজন রাজনীতিবিদের মূল লক্ষ্য ও পবিত্র দায়িত্ব হওয়া উচিত দেশের বাজেট, ভঙ্গুর অর্থনীতি, জনকল্যাণ ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে গঠনমূলক কথা বলা; কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ওপর নোংরা আক্রমণ কিংবা পবিত্র ধর্মীয় বিধানকে উপহাস করা নয়।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি বলেন, “আমরা মনিরুল হক চৌধুরীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো উসকানিমূলক, কুরুচিপূর্ণ এবং নারীদের মর্যাদাহানিকর বক্তব্য প্রদান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য জোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে, মহান সংসদের পবিত্রতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরমতসহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সকল সংসদ সদস্যকে ভবিষ্যতে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।”

Link copied!