সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

ডুবে থাকা কার্গো থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

1694

পিরোজপুরের জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) উপজেলায় কচা নদীর চরে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে ডুবে যাওয়া আকিজ গ্রুপের একটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামে নিখোঁজ এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে মরদেহটি চূড়ান্ত ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর আগে গতকাল রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পারেরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর এলাকা সংলগ্ন কচা নদী থেকে জিয়ানগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল যৌথ অভিযান চালিয়ে এই মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আব্দুল্লাহ পশারী উমেদপুর এলাকার বাসিন্দা আলাল পশারীর ছোট ছেলে।

থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আকিজ গ্রুপের ‘এমভি গ্রিন এসট্রল-১’ নামের একটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ পারেরহাট মৎস্যবন্দর সংলগ্ন উমেদপুর এলাকার কচা নদীর চরে এসে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আংশিক ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই কার্গোর চালক, হেলপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপদে মূল চরে চলে যান এবং জাহাজে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তবে রহস্যজনকভাবে, একই দিন (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত আব্দুল্লাহ পশারী কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হন। সারারাত তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরদিন ১৩ জুন সকাল থেকে পরিবারের লোকজন তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুর্ঘটনাকবলিত ওই কার্গো জাহাজের পাশে নোঙর করা একটি পরিত্যক্ত ছোট ডিঙ্গি নৌকার ভেতর নিখোঁজ আব্দুল্লাহর পায়ের একটি জুতা এবং কার্গোর সিঁড়ির ওপর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। এরপরই আব্দুল্লাহর বড় ভাই রানা পশারী ১৩ জুন জিয়ানগর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই রানা পশারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর আমি থানায় জিডি করেছিলাম। কিন্তু আমার ভাই মধ্যরাতে ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজের কাছে কেন এবং কীভাবে গেল—সেটা আমি এখনো বুঝতে পারছি না। আমার ভাইয়ের এই মৃত্যু কেবলই একটি সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড লুকিয়ে আছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই পরিষ্কার হবে।”

অন্যদিকে, জিয়ানগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “আকিজ গ্রুপের কার্গোটি চরে ডুবে যাওয়ার পর ১৩ জুন থানা থেকে আমাদের ডুবুরি দলের সহায়তার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলকে খবর দিই। গতকাল বিকেলে ডুবুরি দল কার্গো জাহাজের তলিয়ে যাওয়া ইঞ্জিন রুমের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে আব্দুল্লাহর মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, চুরির উদ্দেশ্যে ওই যুবকসহ একাধিক ব্যক্তি রাতে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে জাহাজে উঠেছিল। জাহাজের ভেতরে অন্ধকারে কোনোভাবে ফেঁসে গিয়ে বা পা পিছলে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ, পাশের নৌকায় নিহতের জুতা পাওয়া গেছে।”

জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, “নিহতের ভাইয়ের সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার বিকেলে আব্দুল্লাহর অর্ধগলিত মরদেহ জাহাজের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে থানায় আপাতত একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Link copied!