প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
1699
১৩ জুন ২০২৬, ১০:১২ পিএম
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌর সদরে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিনগত গভীর রাতে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা গেছে, পাকুন্দিয়া পৌর সদরের ডাকবাংলো সংলগ্ন দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঐতিহাসিক জায়গায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়টি অবস্থিত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে কার্যালয়ের টিনশেডের দুটি কক্ষ সম্পূর্ণ ভাঙচুর করে আক্ষরিক অর্থেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, দুর্বৃত্তরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসার মূল অফিস কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সব চেয়ার-টেবিল ও আলমারি ভাঙচুর করে। এ সময় অফিসে থাকা টেলিভিশন ও ফ্যান খুলে নেওয়ার পাশাপাশি আলমারিতে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও সরকারি কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
আজ শুক্রবার সকালে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. আরিফুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন মজনু বলেন, “আজ শুক্রবার ভোরে একজনের মাধ্যমে আমাদের পবিত্র কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পাই। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বুকফাটা ধ্বংসস্তূপ দেখতে পাই। কে বা কারা রাতের আঁধারে চোরের মতো এসে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা আমরা এখনো জানি না। আমাদের বসার কক্ষের ফ্যান, টিভি এবং আলমারি ভেঙে মুক্তিযোদ্ধাদের বহু বছরের মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।”
তিনি এই ঘটনার পেছনে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত দিয়ে আরও বলেন, “এই জায়গাটি সম্পূর্ণ সরকারি। আমরা স্বাধীনতাত্তর ১৯৭২ সাল থেকেই এটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় হিসেবে পরম যত্নে ব্যবহার করে আসছি। তবে এই ঐতিহাসিক জায়গাটি নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় জেলা পরিষদের সঙ্গে একটি দেওয়ানি মামলা চলছে। সেই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই রাতের আঁধারে এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হলো। আমরা উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধারা আজই এক বিশেষ বৈঠকে বসে মামলা দায়ের ও পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব।”
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়ে এই ধরনের হামলা ও লুটপাটের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং স্পর্শকাতর। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমি নিজে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছি এবং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতরা যেই হোক না কেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, “মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাটি আমি শুনেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছি।”
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়ে এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছি এবং ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি। এই অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করতে আমি স্থানীয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।”