রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০১:৪৪ এএম

খুলনায় বিএনপিকর্মীকে গুলি করে হত্যা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

1701

রফিক গাজী

খুলনায় রফিক গাজী (৩৮) নামে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর এক মাঠপর্যায়ের কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে অজ্ঞাতনামা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। আজ শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের ঠিক আগে দুপুরে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা কাজী পাড়া এলাকায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিক গাজী লবণচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার রতন গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিক গাজী আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর নিজ এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে হেলমেট পরিহিত দুই-তিনজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী সেখানে এসে হাজির হয়। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রফিক গাজীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া গুলি তাঁর পেটে ও বুকে বিদ্ধ হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ও মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে খুলনা-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমীর এজাজ খান বলেন, “নিহত রফিক গাজী মূলত বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ও সক্রিয় কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনো কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

একই সুর মিলিয়ে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “রফিক গাজী বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির অন্যতম সম্মানিত সদস্য ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

হত্যাকাণ্ডের সার্বিক বিষয়ে খুলনার লবণচরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, চাঞ্চল্যকর এই খুনের খবর পাওয়ার পরপরই লবণচরা থানা পুলিশের একটি ভারী দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় ও আতঙ্কে মাথাভাঙ্গা কাজী পাড়া এলাকার আশপাশের সব দোকানপাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় মানুষ চরম ভীতির মধ্যে থাকায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কেউ সরাসরি মুখ খুলতে বা কোনো তথ্য দিতে চাইছে না।

ওসি আরও বলেন, “এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে।” নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে এবং এই ঘটনায় লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Link copied!