রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ১২:২২ এএম

বাংলাদেশে এলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

1697

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ দুপুরে সড়কপথে সফলভাবে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে তিনি তাঁর স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেন।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেনাপোল সীমান্তে নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং তাঁর স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে উষ্ণ ও প্রীতিপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বঢ়ে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের সাবেক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তাঁর এই সফর ও নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অনেকটাই তলানিতে ঠেকেছিল। তবে বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লি অতীতের সেই রাজনৈতিক তিক্ততা ও অমীমাংসিত সংকট কাটিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঠিক এমন একটি পরিবর্তনের সময়ে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে পেশাদার কোনো আমলার পরিবর্তে একজন ঝানু রাজনীতিবিদ দিনেশ ত্রিবেদীকে পাঠাল নরেন্দ্র মোদি সরকার। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর কোনো সিনিয়র রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল ভারত।

৭৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক সফল রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউপিএ-২ সরকারের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কোটায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। তবে ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় রেল বাজেট পেশ করার সময় সাধারণ রেলযাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর বাস্তবমুখী প্রস্তাব দিয়ে তিনি নিজ দলীয় সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির তোপের মুখে পড়েন এবং একপর্যায়ে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এছাড়া তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

দীনেশ ত্রিবেদীর ভারতের সংসদীয় রাজনীতির উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—উভয় সভাতেই প্রতিনিধিত্ব করার বিরল অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার সদস্য এবং গুজরাট থেকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে নীতিগত দূরত্বের কারণে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি টিএমসি ও রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের মাসেই ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।

ঢাকায় ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আসার পর তিনি খুব শীঘ্রই মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পরিচয়পত্র (ক্রিডেনশিয়ালস) পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবেন।

Link copied!