প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
1700
১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মেগা বাজেট দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে নতুন সংকট ও ঝুঁকি তৈরি করবে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, বিশাল অংকের ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে নতুন বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক এই প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি মাথায় নিয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান বাস্তব অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় এই বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।
দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার কেবল কর বৃদ্ধি ও ঋণনির্ভর অর্থনীতির ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের চাপ আরও বাড়ার কারণে বাজারে মূল্যস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করবে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। এর সবচেয়ে বড় ও বিরূপ প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ মানুষের ওপর। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত সরকারি ঋণ গ্রহণ দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ ও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এবি পার্টির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র ও সংকট আড়াল করার যে রাজনৈতিক প্রবণতা ছিল, বর্তমান বাজেটেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বাজেটে সরকারি ব্যয় অপচয় কমানো, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকোচনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), নতুন উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে অধিক রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব ও বরাদ্দ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, এসব জনকল্যাণমুখী খাতে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার না থাকায় প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের প্রত্যাশা ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি। দেশের অর্থনীতিকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন, সরকারের অনৈতিহাসিক ব্যয়সংকোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদারের মাধ্যমে এই বাজেট পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান তাঁরা।