প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
1701
১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থার প্রতি সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মানবপাচার ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন রোধে বাংলাদেশ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান।
আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সফররত ইউরোপীয় কমিশনের আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তন ও ভিসা বিষয়ক বিভাগের পরিচালক হেনরিক নিয়েলসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠককালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে বাংলাদেশের এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে অভিবাসন, জনশক্তি স্থানান্তর, বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং এলডিসি-উত্তর পর্বে বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতাসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুমাত্রিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ইইউর বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
আলোচনায় অভিবাসন ও জনশক্তি স্থানান্তর সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রতিমন্ত্রী ইইউর ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জোটভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য নতুন ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে ইইউর আসন্ন ‘অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর’ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়। এ বিষয়ে উভয় পক্ষ ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, নিয়মিত সংলাপ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও মারাত্মক পরিণতি সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চলমান প্রচেষ্টার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়।
রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ও চাপ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগণের জন্য ইইউর অব্যাহত মানবিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।