প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
1697
১৪ জুন ২০২৬, ১২:২০ এএম
কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ধারাবাহিক উচ্চ-পর্যায়ের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার ব্যাপারে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস।
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল-এর এক প্রীতিপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রায়— বিশেষ করে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিল্প খাতের টেকসই আধুনিকায়ন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং পানি ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘদিনের গঠনমূলক ও ধারাবাহিক সহযোগিতার গভীর প্রশংসা করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অভিবাসন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি এবং শিক্ষা, ক্রীড়া ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People Contact) বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ ছাড়া, তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় ফোরামে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে সাময়িকভাবে আশ্রয় নেওয়া বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি নেদারল্যান্ডসের মানবিক ও অর্থনৈতিক অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ডাচ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত ও নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ এবং একটি টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন।