রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ এএম

মোসাদ্দেকের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াকু সংগ্রহ

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

1699

দীর্ঘদিন পর জাতীয় ওয়ানডে দলে নিজের প্রত্যাবর্তন বা কমব্যাক ম্যাচটাকে অবিশ্বাস্যভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুহূর্তে ক্রিজে এসে খেলেছেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। এই ডানহাতি টাইগার অলরাউন্ডারের দায়িত্বশীল ও বিধ্বংসী ব্যাটে ভর করেই প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াকু স্কোর তুলতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস। জয়ের জন্য শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ২৮৫ রান।

এর আগে মিরপুরে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। দলীয় স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫ রান যোগ হতেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান ওপেনার সাইফ হাসান। তবে প্রাথমিক সেই শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। এই দুজনে মিলে দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৯১ বলে ৯৬ রানের একটি চমৎকার পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ওপেনার তানজিদ তামিম ৫৪ রান করে সাজঘরে ফিরলেও অপর প্রান্তে দলের হাল ধরে লড়াই চালিয়ে যান শান্ত।

তানজিদ তামিমের বিদায়ের পর চার নম্বরে নামা লিটন কুমার দাসকে নিয়ে বড় পুঁজি গড়ার স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি অজি বোলাররা। মাত্র ৭ রান করে বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন লিটন দাস। এর মাঝেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বাদশ (১২তম) ফিফটির দেখা পান। অর্ধশতক হাঁকানোর পর শান্ত রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৬৭ রানে সাজঘরে ফিরে যান। শান্তর বিদায়ের পর আচমকা আরও কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বেশ বড়সড় বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ 

দলের এমন সংকটময় মুহূর্তে ইনিংস মেরামত ও বড় করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেন তাওহীদ হৃদয় এবং ৪ বছর পর ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন পর ফিরে মোসাদ্দেক মিরপুরের চেনা উইকেটে নিজেকে নতুনভাবে চেনাতে থাকেন। তিনি উইকেটের চারদিকে দারুণ সব শট খেলে তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ৭৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন।

মোসাদ্দেক শুরু থেকেই ওয়ানডে মেজাজে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও অপর প্রান্তে থাকা হৃদয় ছিলেন বেশ ধীরগতির। আউট হওয়ার আগে ৩১ রানের ইনিংস খেলতে হৃদয় খরচ করেন ৫১টি বল। এরপর লোয়ার মিডলঅর্ডারে ব্যাট হাতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা তানভীর ইসলাম—কেউই নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি, বলার মতো কিছুই করতে পারেননি তাঁরা।

মিডলঅর্ডারের অন্য ব্যাটারদের এমন চরম ব্যর্থতার দিনে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান মোসাদ্দেক। নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার আগে মাত্র ৭০ বলের মুখোমুখি হয়ে ৮৬ রানের একটি টর্নেডো ও ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৫২ রান। ইনিংসের শেষদিকে মোসাদ্দেককে যোগ্য সঙ্গ দেন লোয়ারঅর্ডারে নামা পেসার তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের একদম শেষ বলে আউট হওয়ার আগে তাসকিন খেলেন ১৬ বলে ২০ রানের একটি কার্যকর ক্যামিও ইনিংস। টপঅর্ডারের শান্ত-তামিম এবং লোয়ারঅর্ডারে মোসাদ্দেক-তাসকিনের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে আজ সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন পেসার নাথান এলিস। তিনি একাই শিকার করেছেন সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট। এছাড়া অলরাউন্ডার ম্যাট রেনশো ও লিয়াম স্কট প্রত্যেকে ২টি করে এবং ব্রাটলেট ১টি উইকেট লাভ করেন।

Link copied!