প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
1700
১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
অবিলম্বে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং নিজেদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে এই দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি সরকারের কাছে পেশ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমান্ডার এম এম লাল মিয়া মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে দেশের ৪৯৫টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৭৮টি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার ৮১০ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কর্মরত রয়েছেন। তারা সার্বক্ষণিকভাবে সরকারি পোশাক পরিধান করে দিনরাত জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এত পরিশ্রমের পরও তারা মাসিক মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে নামমাত্র ভাতা পান। বর্তমান লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বাজারে এই সামান্য টাকা দিয়ে একটি পরিবার পরিচালনা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, এই স্বল্প আয়ের কারণে অনেক গ্রাম পুলিশ সদস্য অর্থের অভাবে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারছেন না। একই সঙ্গে পরিবারের স্বাভাবিক ভরণপোষণ ও বয়স্ক বাবা-মায়ের চিকিৎসা খরচ জোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।
বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনে করিয়ে দেন যে, ২০১১ সালের গেজেট অনুযায়ী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাঁদের এই ন্যায্য দাবির পক্ষে উচ্চ আদালতের (হাইকোর্ট) সুস্পষ্ট রায়ও রয়েছে।
তাই দীর্ঘদিনের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরাসরি 'জাতীয় বেতন স্কেলের' আওতায় আনার জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকার তাঁদের এই দীর্ঘদিনের ন্যায়সংগত দাবি অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই অধিকার আদায়ের মানববন্ধনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার গ্রাম পুলিশ সদস্য সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজেদের একাত্মতা ঘোষণা করেন।