প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
1703
১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) হলের কক্ষে মাদক সেবনের অভিযোগে চার ছাত্রের আবাসিকতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, হলের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে গাঁজা সেবনের সময় তাঁদের হাতেনাতে আটক করার পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হল'-এর একটি কক্ষে আকস্মিক যৌথ অভিযান চালায় হল প্রশাসন ও ছাত্রকল্যাণ দপ্তর।
অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করে ওই চার শিক্ষার্থীকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের হেফাজত থেকে বেশ কিছু পরিমাণ গাঁজাও উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঝটিকা অভিযানে সশরীরে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী এবং শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক।
রূঢ় এই অপরাধের সত্যতা পাওয়ার পর গতকাল রাতেই প্রশাসনের জরুরি সিদ্ধান্তে ওই চার শিক্ষার্থীর হলের আবাসিকতা (সিট) বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে আজ মঙ্গলবারের (৯ জুন) মধ্যে তাঁদের মালপত্র নিয়ে হল ত্যাগ করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “ওই চার ছাত্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে হলের আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সম্পূর্ণ নিজস্ব এখতিয়ারে নেওয়া হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চাইলে নিয়মানুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) কাছে এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।”
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আরও স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদকসহ যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন শতভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অনুসরণ করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।