রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ এএম

শুভেন্দুর ‘৪,৮০০ বাংলাদেশি ফেরত’ পাঠানোর দাবি সরাসরি নাকচ করল বিজিবি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

1698

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের পর ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশিকে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে ভারতের এই চাঞ্চল্যকর দাবি সরাসরি ও জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'ডয়চে ভেলে'কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করা বা জোরপূর্বক পাঠানো সম্ভব হয়নি। যদিও ভারতের দিক থেকে এ ধরনের একাধিক অন্যায্য চেষ্টা হয়েছে, তবে বিজিবি প্রতিবারই তা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। কিছু সংবাদমাধ্যম পুশইনের যে খবর বা সংখ্যা প্রচার করছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও গুজব।

সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিজিবির এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও বলেন, *“সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক (অ্যালার্ট) অবস্থায় রয়েছে। কোনোভাবেই আমরা অবৈধ পুশইন করতে দেব না। আমরা সীমান্তে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই কঠোর পাহারা দিচ্ছি। আমাদের জওয়ানদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার দেশপ্রেমিক স্থানীয় সাধারণ মানুষও এখন রাত জেগে স্বেচ্ছায় পাহারা দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসে নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাজ্যে নির্বাচনি প্রচারণার সময়ই দলটি অবৈধ অভিবাসীদের ‘শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং বহিষ্কার’ করার উগ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর নথিপত্রহীন বাংলাদেশি এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আটকে রাখার জন্য বিশেষ আটককেন্দ্র বা ডিটেনশন সেন্টার (হোল্ডিং সেন্টার) স্থাপনের নির্দেশ দেয় বিজেপি সরকার。

গত রোববার (৭ জুন) কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সভায় বলেন, *“আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় না আসা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছি।”* তিনি দাবি করেন, মে মাসে রাজ্যের সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং এই কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন এই আটককেন্দ্রগুলোতে রয়েছেন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমরা খুব দ্রুত এই ৮৩৬ জনকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। তার এমন উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে খণ্ডন করে বিজিবির উপ-মহাপরিচালক (মিডিয়া) কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ স্পষ্ট দাবি করেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে কোনো মানুষ পাঠানোর তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

পুশইনের অন্যায্য ও বেআইনি প্রয়াস সম্পর্কে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, *“কোনোভাবেই পুশইন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনো দেশে অন্য কোনো দেশের নাগরিকরা অবৈধভাবে থেকে থাকেন, তবে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে একটি নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ‘স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর’ বা সুনির্দিষ্ট আইনি নিয়ম আছে। সেটা দুই দেশ একটা যৌথ ভেরিফিকেশন প্রসেসের (যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া) মাধ্যমে আইনি সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পুশইন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অবৈধ।”*

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশকে যদি ভারতের পক্ষ থেকে সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেটা সম্পূর্ণ দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক বিষয়। এই সংক্রান্ত কোনো তালিকা বা তথ্য বিজিবির জানা নেই।

Link copied!