প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
1710
১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২৪ এএম
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ব্যবসায়ীদের শুধু মুনাফার কথা চিন্তা না করে সামাজিক দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন।
তিনি বলেছেন, *"খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যদি মনে করেন তাদের নিজেদের পরিবারের সদস্যরাও একই খাবার গ্রহণ করছেন, তাহলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি এটি জাতীয় সংসদেও তুলে ধরব।"*
শনিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি কামরুজ্জামান রতন আরও বলেন, একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ খাদ্যের পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব স্তরের নাগরিককে একযোগে কাজ করতে হবে। কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, খাদ্য শুধু বেঁচে থাকার উপকরণ নয়, এটি মানুষের সুস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নির্ধারক। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে, যা দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের পরিবর্তিত জীবনযাত্রা এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার বৃদ্ধিই এ পরিস্থিতির অন্যতম মূল কারণ। এই মারাত্মক সংকট মোকাবিলায় অতিপ্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা সংবলিত 'ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং' (এফওপিএল) প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।
সেমিনারে অংশ নেওয়া অন্য বক্তারা জানান, বিশ্বের ৪৪টিরও বেশি দেশে ইতোমধ্যে এফওপিএল ব্যবস্থা সফলভাবে চালু রয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর নয়। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো উন্নত দেশগুলোতে যে মানদণ্ড অনুসরণ করে, বাংলাদেশেও যেন প্যাকেটজাত খাবারে একই মান বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তারা।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুব রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব এবং সহসভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমান।