রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ১২:২২ এএম

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

1705

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান নির্যাতন ও সহিংসতা রোধে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ।

তিনি বলেছেন, শিশু নির্যাতন একটি জটিল সামাজিক সমস্যা, যা শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

Goal-Table.jpg
গোলটেবিল বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার সহ অন্যান্যরা

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই নির্যাতনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা মূল্যায়নের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তিনি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক এবং নৈতিক দায়িত্ব। শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকার ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্প্রতি আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক নানা ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শিশু অধিকার বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করছে।

গোলটেবিল বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য আইনগত ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক ও সেবামূলক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ বৈঠকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, শিল্পী, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী, সচেতন নাগরিক, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন এমপি, নিপুণ রায় চৌধুরী এমপি, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলসহ নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, উন্নয়নকর্মী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!