শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

ঢাকা মহানগরকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম

1696

 মির্জা ফখরুল

রাজধানী ঢাকার লাগামহীন পরিবেশ দূষণ, বুড়িগঙ্গা-তুরাগের মরণদশা এবং নাগরিক সেবার বেহাল দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরকে আর কোনোভাবেই বাসযোগ্য শহর বলে মনে হয় না। এই মেগাসিটিতে এখন সাধারণ মানুষের স্বস্তিতে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ারও অবস্থা নেই। এখানকার প্রত্যেকটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে আমরা যদি দ্রুত বের হতে না পারি, তবে ভবিষ্যতে এই শহরে আর কেউ বসবাস করতে পারবেন না।" আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ফাস হোটেলে (FAARS Hotel) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ঢাকা শহরকে বাঁচাতে একটি নতুন নাগরিক আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, "আমাদের ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বর্তমান প্রশাসক একটি যুগান্তকারী নতুন আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছেন। এই আন্দোলন মূলত তিলোত্তমা ঢাকা শহরকে রক্ষা করবার আন্দোলন। ঢাকা শহরের সাধারণ নাগরিকদের বুক ভরে মুক্ত বাতাস নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের বাসযোগ্য সুন্দর নগর তৈরি করার মহতী আন্দোলন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব আন্দোলন আমাদের সাধারণ নগরবাসীকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত ও আন্তরিক করবে।" তিনি দেশের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও বেশি দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর সুন্দর আগামী উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের সেই আত্মত্যাগ ও দৃঢ় কমিটমেন্ট থাকা দরকার।

নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "ঢাকা মহানগর আমাদের সবার পরম ভালোবাসার এবং বাস করার প্রধান জায়গা। কিন্তু আজকাল শহরের পরিবেশের যে করুণ অবস্থা, তাতে আমার নিজেরই মাঝেমধ্যে মনে হয় যে আমি আর ঢাকা শহরে থাকবো না। এর প্রধান কারণটা হচ্ছে, ঘর থেকে বের হলেই বিষাক্ত বাতাস, কোথাও শান্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাবেন, অথচ যানজট আর অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে ঢোকাই যাবে না। প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে।"

বক্তব্যের একপর্যায়ে নিজের আবেগঘন ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, "আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, কলেজে পড়ার সময় প্রায়ই বন্ধুরা মিলে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য আসতাম। কী চমৎকার ও স্বচ্ছ ছিল সেই বুড়িগঙ্গার পানি! আর এখন সেই বুড়িগঙ্গার ধারেকাছেও কোনো সুস্থ মানুষ যেতে পারে না। বাতাসে এতো তীব্র দূষণ আর অসহ্য দুর্গন্ধ! তুরাগ নদীরও আজ একই করুণ দশা। ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হলে সবার আগে আমাদের এই নদীগুলোকে দূষণমুক্ত ও বিশুদ্ধ করার সমন্বিত চেষ্টা করতে হবে। অথচ দুঃখের বিষয়, দেশে মেগা মেগা এত প্রজেক্ট বা প্রকল্প পাস হয়, কিন্তু এই বুড়িগঙ্গাকে স্থায়ীভাবে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর মেগা প্রজেক্ট বা প্রকল্প আজ পর্যন্ত তৈরি হয় না।" তিনি নদী রক্ষায় ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাঁর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Link copied!