শনিবার ০৬, জুন ২০২৬

০৬ জুন ২০২৬, ০২:৫০ এএম

২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ, জবাব দিলেন আসিফ-হাসনাত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম

1709

জাতীয় নাগরিক পার্টির আসিফ-হাসনাত

জেলা পরিষদের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তাঁদের দাবি, আলোচিত অর্থ কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত খাতে গ্রহণ করা হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী বরাদ্দ ও ব্যয় করা হয়েছে।

সম্প্রতি এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের অর্থ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দুই রাজনৈতিক নেতার কাছে গেছে। বক্তব্যটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচিত অর্থ কোনো ব্যক্তিগত বরাদ্দ নয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোও বরাদ্দ পেয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়ম মেনে ব্যয় করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সব নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

একই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, আলোচিত অর্থ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট উপজেলার জন্য নির্ধারিত অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলেও এর সঙ্গে রাজস্ব খাতের কোনো সম্পর্ক নেই।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, আলোচনায় যে পরিমাণ অর্থের কথা বলা হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি গ্রহণ করেননি। বরং বিভিন্ন অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় একাধিক প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে বলে তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ব্যয়ের প্রতিটি হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে অর্থ আত্মসাৎ বা ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য নিয়ে প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, আলোচিত অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, তাঁর বক্তব্য গণমাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপিত না-ও হয়ে থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আওতায় জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব বরাদ্দ সাধারণত অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দাবি করছে, বরাদ্দ ও ব্যয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা যাচাই করা সম্ভব।

Link copied!