প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
1709
০৬ জুন ২০২৬, ০২:৫০ এএম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুর্নীতিগ্রস্ত—এটি অত্যন্ত পুরোনো কথা হলেও, এর বাইরে দুর্নীতির কথা বাদ দেওয়া হলে এটি মূলত একটি চরম অলস সংস্থা বলে মন্তব্য করেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের ডিন প্রফেসর ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। আজ রবিবার (২৪ মে) সকালে রাজধানীর ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নতুন করের আওতা বা পরিধি না বাড়িয়ে এনবিআর কেবল গরিব মানুষের কাছ থেকে রাজস্ব নেয়ার পলিসিতেই বেশি জোর দিচ্ছে। তারা পারলে পুরো লক্ষ্যমাত্রাই পরোক্ষভাবে ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) মাধ্যমে আদায় করে নিতে চায়, যার ফলে বস্তুতপক্ষে দেশের সাধারণ ও গরিব খেটে খাওয়া মানুষের ওপর থেকে বারবার অন্যায়ভাবে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সেমিনারে প্রফেসর ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বর্তমান কর কাঠামোর ত্রুটি তুলে ধরে বলেন, আমাদের দেশের কর নীতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে পরোক্ষ ভ্যাট নেওয়ার কারণে গরিবের ওপর করের বোঝা বেশি চেপে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে দেশের জন্য অবাস্তব কোনো বড় বাজেট ঘোষণার দরকার নেই, বরং একটি প্রয়োজনীয় ও ছোট আকারের বাজেট দরকার। বাজেট আকারে ছোট হলেও যদি তা কোয়ালিটিফুল বা মানসম্মত হয়, তবে সেটিই হবে দেশের মানুষের প্রকৃত প্রত্যাশার বাজেট। ব্যবসায়ী ও করদাতাদের ওপর বাড়তি করের বোঝার বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে অগ্রীম আয়কর বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা কোনো সঠিক সমাধান নয়। ট্যাক্সের হার বাড়ানো কোনো বাহাদুরি নয়, বরং বাহাদুরি হলো ট্যাক্সের আওতা বাড়ানো। যারা নিয়মিত কর দিচ্ছে তাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে, যারা কর ফাঁকি দিচ্ছে বা দিচ্ছে না, তাদের খুঁজে বের করে কর আদায় করার তাগিদ দেন তিনি। প্রতি বছর জুনে বিশাল বাজেট ঘোষণা করে ডিসেম্বরে এসে তা কাটছাঁট ও সংশোধন করার নেতিবাচক সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে বিশাল বাজেট আদায় করা সম্ভব না, তা কেন দেওয়া হলো—সেটির জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতির ভাষণে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রানিং বাজেটটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত একটি বিশেষ বাজেট। তবে আগামীতে নতুন নির্বাচিত সরকারের অধীনে যে বাজেটটি ঘোষিত হতে যাচ্ছে, সেটিই হবে পূর্ণাঙ্গ প্রথম বাজেট। আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করবো, আগামী জাতীয় বাজেট যেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই ঘোষণা করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই ছিল অতিরিক্ত মাত্রায় বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ নির্ভর। দেশের আপামর মানুষের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার এই দীর্ঘদিনের ঋণ-নির্ভর দেউলিয়া বাজেট সংস্কৃতি থেকে বাংলাদেশ এবার চিরতরে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।