রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য কমলাপুর কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

1708

ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন

ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে ট্রেনের শতভাগ অগ্রিম টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি শেষ হয়েছে আরও ১০ দিন আগে। তবে রেলওয়ের নিয়মানুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ট্রেন ছাড়ার ঠিক ২ ঘণ্টা আগে নন-এসি সাধারণ কোচের মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (আসনবিহীন টিকিট) কাউন্টার থেকে বিক্রির বিশেষ নিয়ম রয়েছে। আর শেষ মুহূর্তের সেই কাঙ্ক্ষিত স্ট্যান্ডিং টিকিটের খোঁজে আজ রবিবার (২৪ মে) সকাল থেকেই দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন ঢাকা (কমলাপুর) কাউন্টারগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো ঘরমুখো মানুষ। তীব্র গরম আর দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি পেরিয়ে কেউ কেউ সেই টিকিট পেলেও অনেককেই ফিরতে হচ্ছে নিরাশ হয়ে।

স্টেশনের তিন নম্বর আন্তঃনগর কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক যাত্রী জানান, অনেক চেষ্টা করেও অনলাইনের মাধ্যমে কোনো অগ্রিম টিকিট কাটতে পারেননি। এদিকে দূরপাল্লার বাসের ভাড়াও স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য এখন ট্রেনই একমাত্র ভরসা। অনেকক্ষণ কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অবশেষে তিনি ‘অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি স্ট্যান্ডিং টিকিট পেয়েছেন, যা দিয়ে তিনি নরুন্দি যাবেন। সিট না পেলেও ট্রেনের ভেতরে কোনোভাবে দাঁড়ানোর জায়গা পেলেই তিনি নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের টিকিটের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও স্ট্যান্ডিং টিকিট না পেয়ে মন খারাপ করা আরিফ নামের এক যাত্রী জানান, তিনি পীরগঞ্জে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন কিন্তু কাউন্টারে টিকিট শেষ হয়ে গেছে। এখন বিকল্প কোনো উপায়ে বাড়ি যাওয়া যায় কি না, সেই চেষ্টা করছেন তিনি।

এদিকে আজ সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যাত্রীদের এই ভিড় ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "বিপুল সংখ্যক ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করবার জন্য আমাদের যে ট্রেনের সংখ্যা ও সক্ষমতা রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। আমরা প্রতিদিন স্বাভাবিক সময়ে ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রার সুযোগ করে দিতে পারি। তবে ঈদ উপলক্ষ্যে সিটের সংখ্যা আরও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪ হাজারের মতো যাত্রী পরিবহনের বিশেষ সুযোগ করা হয়েছে। তবে যেখানে লাখ লাখ যাত্রীর ট্রেনে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা আছে, সেখানে এই সীমিত আসন দিয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সত্যিই অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।"

Link copied!