শনিবার ১৩, জুন ২০২৬

১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

নতুন পে স্কেল: সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

1702

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় বাজেটেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এই ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন বাহিনীর চাকরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি সুবিধাগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরির গ্রেড সংখ্যা আগের মতোই ২০টি বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া পেনশন সুবিধাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে ৭৫ শতাংশ এবং এর বেশি পেনশনে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

বয়সভিত্তিক অতিরিক্ত ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীরা ৫ হাজার টাকা ভাতা পেতে পারেন।

কমিটি আরও সুপারিশ করেছে, প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাড়িভাড়ার ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত তুলনামূলক কম এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বেতন কমিশনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

Link copied!