প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১১:২০ এএম
1710
০৬ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে গুটি জাতের আম পাড়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এ বছরের আম সংগ্রহ মৌসুম। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আম বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল থেকে রাজশাহী নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের বাগান থেকে গুটি আম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও আজ থেকে মৌসুমের প্রথম আম উঠতে শুরু করেছে।
আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে এবার গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে তুলনামূলক কম পরিমাণে আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী শনিবার বানেশ্বর হাটে কিছু আম বিক্রির জন্য নেওয়া হবে, তবে এখনই বড় পরিসরে বাজারজাত করার পরিকল্পনা নেই।
আরেক আমচাষি রেজাউল করিম বলেন, নগরীর বুধপাড়া এলাকায় গুটি আম সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি আম পাড়ার কার্যক্রম শুরু হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তখন বাজারে আমের সরবরাহও বাড়বে।
আমের দাম সম্পর্কে তিনি জানান, মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় এখনই নির্দিষ্ট বাজারদর বলা কঠিন। হাট ও পাইকারি বাজারে আম ওঠার পর প্রকৃত দাম নির্ধারণ হবে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অপরিপক্ব আম বাজারজাত বন্ধ এবং আমের স্বাদ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো এবং ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি আম বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। কৃষি বিভাগ আরও জানিয়েছে, কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম বছরজুড়েই সংগ্রহ করা সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৩৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি টাকারও বেশি।