রবিবার ১৪, জুন ২০২৬

১৪ জুন ২০২৬, ০৫:২২ এএম

 হাল ছাড়েননি মনিরুল, মাশরুম চাষে সফলতায় স্বাবলম্বী গাংনীর উদ্যোক্তা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১১:৫২ এএম

1712

মনিরুল

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা শহরের উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম এক সময় নানা প্রতিকূলতা ও লোকসানের মুখে পড়লেও ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন সফল মাশরুম চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রায় আট বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় তিনি মাশরুম চাষকে পেশা হিসেবে নিয়ে এখন বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করছেন। তার এ সফলতা দেখে স্থানীয় যুবকদের মধ্যেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে তিনি ছোট পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে মাশরুম চাষ শুরু করেন। শুরুতে তিনি ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়লেও থেমে যাননি। বরং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সফলতার পথে এগিয়ে যান।

পরবর্তীতে তিনি গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার সাভারে ১০ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাশরুম চাষের কৌশল শেখার পর তার উৎপাদন ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে মনিরুল ইসলামের মাশরুম চাষ ঘরে প্রায় ৯০০টি সিলিন্ডার রয়েছে। তিনি নিজেই কাঠের গুঁড়া, ধানের খড়, পলিব্যাগ ও গমের ভুসি দিয়ে এসব সিলিন্ডার তৈরি করেন। প্রতিটি সিলিন্ডারে মাশরুমের বীজ দেওয়া হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে মাশরুম উৎপাদিত হয়। প্রতিটি সিলিন্ডার তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৬০ টাকা এবং একটি সিলিন্ডার থেকে ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত মাশরুম উৎপাদন সম্ভব হয়।

বিশেষ করে শীত মৌসুমে মাশরুমের উৎপাদন বেশি হয় বলে জানান তিনি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে করে তিনি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় করছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, “২০১৮ সালে শুরু করেছিলাম, প্রথম কয়েক বছর অনেক লোকসান হয়েছে। পরে কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করি। এখন নিয়মিত উৎপাদন হচ্ছে এবং চট্টগ্রামেও মাশরুম সরবরাহ করছি।”

তার সফলতা দেখে স্থানীয় যুবকরাও মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় যুবক মঈন আলী বলেন, মনিরুল ইসলামের সাফল্য আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরাও এ খাতে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার ইসলাম বলেন, মাশরুম চাষে মনিরুল এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এই খাত থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় মনিরুল ইসলাম একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠেছেন। তিনি এখন দেশব্যাপী মাশরুম সরবরাহ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Link copied!