সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

শৃঙ্খলা-সততা-দেশপ্রেম ছাড়া জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী অর্থহীন: ড. মঈন খান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

1714

ড. মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবনের যে আদর্শ, যদি সেই আদর্শ আমাদের জীবনে ধারণ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে তার জন্মদিন বা শাহাদতবার্ষিকী পালন করা একেবারেই অর্থহীন।

আজ রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘রাষ্ট্রের সিনিয়র মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমানের জীবন থেকে তিনটি প্রধান কথা শিক্ষা নেওয়া যায়। প্রথম হচ্ছে শৃঙ্খলা, দ্বিতীয় হচ্ছে সততা এবং তৃতীয় হচ্ছে দেশপ্রেম। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আসুন আমরা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে যা শিখেছি, আজকে সেই আদর্শকে সামনে নিয়ে এসে তারেক রহমানের প্রচেষ্টাকে সফল করার জন্য আমরা শৃঙ্খলা, সততা এবং দেশপ্রেম দিয়ে নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলি।"

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি জাতি, যে জাতি বিগত ৫৫ বছরে বারবার বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে সামনের দিকে গেছে। আমাদের যাত্রাপথ কিন্তু মসৃণ ছিল না। যে স্বাধীনতার জন্যে এ দেশের লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল, সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ আমরা এই ৫৫ বছরেও পুরোপুরি বিনির্মাণ করতে পেরেছি—তা কিন্তু নয়।

আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, ৫৫ বছর একটি জাতির জীবনে দীর্ঘ সময় না হলেও একেবারে কমও নয়। কাজেই বাংলাদেশ এখন একটি 'শিশু রাষ্ট্র', সেই অজুহাত দিয়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না। নতুন প্রজন্মের ওপরে এখন অনেক দায়িত্ব। জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, এবারে আমরা সঠিক পথে এগিয়ে গিয়ে সেই ইতিহাস সৃষ্টি করব যেন আর কোনো ভুল না হয়।

মঈন খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু ৭২ থেকে ৭৫—মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে সেই প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে দ্বিতীয়বার দায়িত্বে নিয়ে আসে। প্রথমবার তিনি নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে বিজয়ীর বেশে ফিরে এসেছিলেন এবং বীর উত্তম উপাধি পেয়েছিলেন। সিপাহী জনতার বিপ্লবের পর দেশের মানুষ তাকেই খুঁজে নিয়েছিল এবং তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশকে এক নতুন রূপ দিয়েছিলেন।

আলোচনা সভায় ড. আব্দুল মঈন খানের পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।

Link copied!