মঙ্গলবার ১৬, জুন ২০২৬

১৬ জুন ২০২৬, ০২:১১ এএম

 আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার বিয়ে, অতিথি জামায়াত এমপি 

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

1708

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রদল নেতার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই বিয়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। রাজনৈতিক বৈরিতার ঊর্ধ্বে উঠে এমন এক ব্যতিক্রমী সামাজিক মেলবন্ধনের ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) কালীগঞ্জ উপজেলার বগেরগাছি গ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম মন্টুর মেয়ে মেহেজাবিন ইসলাম তুলির সঙ্গে একই উপজেলার ছাত্রদলের আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহর এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের এক অভূতপূর্ব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

অনুষ্ঠান চলাকালীন একটি বিশেষ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ তোলপাড় চলছে। ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টু নিজ হাতে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবকে খাবার তুলে দিচ্ছেন। এই দৃশ্যটি নেট দুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, এই বিয়েকে কেন্দ্র করে সমালোচনার অন্য একটি কারণ হলো কনে পক্ষ তথা আওয়ামী লীগ নেতা মন্টুর বিরুদ্ধে চলমান একটি হত্যাকাণ্ড মামলা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ কালীগঞ্জ মাহতাব উদ্দিন কলেজের পূর্ব গেট এলাকা থেকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী শামীমকে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে একই বছরের ১৩ এপ্রিল যশোর সদরের লাউখালী গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিহত শিবিরের কর্মী শামীমের বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় এই আওয়ামী লীগ নেতা মহিদুল ইসলাম মন্টুসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

হত্যা মামলার আসামির পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং আপ্যায়ন গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব বলেন, "রাখালগাছি ইউনিয়নেই আমার নিজের গ্রামের বাড়ি। সামাজিক ও প্রতিবেশীর সম্পর্কের দায়বদ্ধতা থেকেই আমি ওই বিয়ে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে গিয়েছি। তবে দল বা সামাজিক সম্পর্কের কারণে কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। মামলার ভুক্তভোগী পরিবারটি যেন শতভাগ সঠিক ও ন্যায়বিচার পায়, আইনগতভাবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে।"

Link copied!