প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
1691
১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত ১২ জুন তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পুলিশকে মেইল পাঠায় এনসিবি আবুধাবি। এরপর থেকেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ঠিক কী আইনি প্রক্রিয়ায় এবং কতদিনের মধ্যে সাবেক এই ক্ষমতাধর পুলিশ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দুদকের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট ও আইনি প্রক্রিয়াগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী মূলত ৩টি ধাপে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে:
১. ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট):
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন নম্বর ৩৯ (২০০৬) অনুযায়ী, কোনো অপরাধীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করার পর থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের আবেদন বা ‘এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট’ পাঠাতে হয়। ফলে বাংলাদেশ সরকারকে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে সব আইনি নথিপত্র দুবাই প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে।
২. স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতা:
ইতিমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে করা মামলা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি দলিলাদি প্রস্তুত করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এই প্রত্যর্পণ প্রস্তাবটি দ্রুততম সময়ে অনুমোদন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠানো হবে।
৩. এনসিবি ঢাকা ও আবুধাবির ফলোআপ কার্যক্রম:
বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা সার্বিক আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দুবাইয়ের আদালত প্রত্যর্পণ প্রস্তাব মঞ্জুর করলে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ দল দুবাই গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেবে এবং বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনবে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের দায়ের করা মোট ৬টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৭৬ কোটি টাকারও ওপরে। এছাড়া তিনি সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় নিয়ম লঙ্ঘন করে সাধারণ নাগরিক সেজে একাধিক জাল পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে বলেছেন, “অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”