সোমবার ১৫, জুন ২০২৬

১৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

কোরবানির হাটে এবার দরপতন, রাজস্ব হারানোর শঙ্কায় চসিক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

1709

পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে পশুর হাট প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চললেও এবার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। স্থায়ী হাটগুলো থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা থাকলেও অস্থায়ী হাটে কম দর এবং কয়েকটি হাটে দরপত্র জমা না পড়ায় উদ্বেগে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির অনুমোদিত ২২টি হাটবাজারের মধ্যে ৬টি পশুর হাট থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে চলতি বছর অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারামূল্য আশানুরূপ না হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট থেকে এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে চসিক। এর মধ্যে নগরের সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুরাদপুরের বিবিরহাট ইজারা হয়েছে ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়, যেখানে গত বছর একই হাটের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়।

তবে অস্থায়ী হাটগুলোর চিত্র ভিন্ন। চসিকের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকা দর উঠেছে। মুসলিমাবাদ মাঠের হাটে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দর পাওয়া গেছে। এছাড়া ওয়াজেদিয়া হাটে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী পশুর হাটে সবচেয়ে কম দর পাওয়া গেছে।

হাট সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের তুলনায় পশুর হাটের ব্যবসায় লাভ কমে গেছে। বর্তমানে অনলাইনে পশু বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি অনেকেই ভাগাভাগি করে কোরবানি দিচ্ছেন, ফলে বড় পশুর চাহিদাও তুলনামূলক কমেছে। এছাড়া অনেকে সরাসরি খামার থেকে পশু কিনতে আগ্রহী হওয়ায় হাটকেন্দ্রিক বেচাকেনা কমে যাচ্ছে।

ইজারাদারদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন পশুর হাট বসার কারণে বৈধ হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা, কর্মচারী নিয়োগ এবং অবকাঠামো তৈরির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় হাট পরিচালনার খরচও বেড়েছে।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী বলেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে হাট ইজারা নেওয়ার পর এখন সেই বিনিয়োগ উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, অনুমোদিত হাটের বাইরে কোথাও পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি জানান, বৈধ হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হবে।

রাজস্ব ক্ষতির বিষয়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, অবৈধ হাটের কারণে শুধু রাজস্ব ক্ষতিই নয়, যানজট, চাঁদাবাজি, অপরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও সৃষ্টি হয়। তাই এবার অবৈধ হাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সিটি করপোরেশন।

Link copied!