প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
1697
১৪ মে ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। চার দিনব্যাপী এই আয়োজন নানা কর্মসূচি, আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বুধবার (১৩ মে) সমাপ্ত হয়।
“আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের পুলিশ সপ্তাহের শেষ দিনে সন্ধ্যায় অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি কর্মরত কর্মকর্তারাও আধুনিক পুলিশিং, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দেন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন অধিবেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, মাদকবিরোধী অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে জনগণের আস্থা অর্জন এবং পুলিশ-জনতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এবারের পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১০ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা করেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং জনসেবামুখী পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ পুলিশকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইজিপির একাধিক মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এবারের পুলিশ সপ্তাহে অংশগ্রহণমূলক আলোচনা ও বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মানবিক সেবার অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে জনসেবামুখী ও আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।