প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
1695
১৪ মে ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
মেহেরপুরে দিশেহারা কৃষক
মেহেরপুরে সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিতরণ করা ধান বীজে ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। একই জমিতে একাধিক জাতের ধান জন্মানো, অস্বাভাবিকভাবে কিছু ধান আগেই পেকে যাওয়া আবার কিছু গাছে শীষ বের না হওয়া—এ ধরনের সমস্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অনেক জমিতে ধানের শীষ শুকিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও পচন ধরছে। ফলে ধান কাটার আগেই বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহ করা বীজই কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিএডিসি বলছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সরেজমিনে জেলার গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বর্গাচাষি আব্দুল আলীম কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার আওতায় পাওয়া ধান বীজ দিয়ে আবাদ করেছিলেন। তিনি জমি প্রস্তুত, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেন।
কিন্তু ধানের শীষ আসার সময় জমিতে দেখা দেয় অস্বাভাবিক অবস্থা। একই জমির কিছু অংশে ধান আগেই পেকে গেছে, কিছু অংশে নতুন করে শীষ বের হচ্ছে, আবার কিছু অংশ থোড় অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি অনেক শীষ শুকিয়ে গেছে এবং কিছু জায়গায় পচনও দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, তিনি ধারদেনা করে আবাদ করেছেন। এখন যে অবস্থা, তাতে খরচের অর্ধেকও উঠবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষক হামিদুল ইসলাম ও আক্তার হোসেন।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি প্রণোদনার বীজ অনেক সময় মৌসুমের শেষ দিকে বিতরণ করা হয়, ফলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যের বীজ কিনে আবাদ করেন। তাদের মতে, এভাবে নিম্নমানের বা সন্দেহজনক বীজ বিতরণ চলতে থাকলে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির সুফল ব্যাহত হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার তিন উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ কৃষককে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়। তাদের মাঝে ব্রি-ধান ৮৮, ৮৯ ও ৯২ জাতের ৫ কেজি করে বীজ, পাশাপাশি ডিএপি ও এমওপি সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এ মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। তবে কৃষকদের আশঙ্কা, বীজ সমস্যার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি বিষয়টি ভালোভাবে বলতে পারবে।
অন্যদিকে বিএডিসির মেহেরপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিডি) আশরাফুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রণোদনার নামে নিম্নমানের বা ভেজাল বীজ বিতরণ বন্ধ করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে কৃষিনির্ভর মেহেরপুরে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।