প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১১:০২ এএম
1695
১৪ মে ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণার জন্য আর পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। একইসঙ্গে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনাও আপাতত বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল, ব্যয় সাশ্রয়ী ও আধুনিক করতে একাধিক আইন ও বিধিমালায় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কমিশন ইতোমধ্যে একটি বিশেষ সভা আহ্বান করেছে, যেখানে নতুন আচরণবিধি ও সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতিরিক্ত প্রার্থীর চাপ কমাতে এবং শুধুমাত্র যোগ্য ও গুরুত্বসহকারে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নির্বাচনমুখী করতে জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, খুব কম জামানতে যে কেউ প্রার্থী হয়ে যাওয়ায় ব্যালট পেপারের আকার বড় হয়ে যায় এবং ভোটারদের ভোট দিতে বিভ্রান্তি ও সময়ক্ষেপণের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছুউদ গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে বিভিন্ন আইনি পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি জানান, পোস্টারভিত্তিক প্রচারণা বাদ দেওয়া হবে এবং নির্বাচনী আচরণবিধিতে নতুন কিছু নিয়ম সংযোজন করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ন্যূনতম সমর্থনের নথি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন আচরণবিধি প্রণয়নের প্রস্তাবও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা আরও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ইলেকশন সিডিউল ম্যানেজমেন্ট মডিউল (ইএমএস)’ নামে নতুন সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ, গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ, ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ রাখা হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ মের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান আইনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত নির্ধারিত রয়েছে। একইভাবে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত জমা দিতে হয়। এর আগে ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছিল।
বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন ঘিরে কমিশনের নতুন উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গন ও ভোটারদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।