বৃহস্পতিবার ১৪, মে ২০২৬

১৪ মে ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

গণতন্ত্র রক্ষায় সাংবাদিকদের সতর্ক থাকাতে হবে: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ১০:৩০ এএম

1699

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ধর্মমন্ত্রী

দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
 
দুপুরে সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনেকেই অস্বস্তি বোধ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে সাংবাদিকদের চোখ-কান খোলা রেখে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
 
তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় বা দেশের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাদের বিষয়ে গণমাধ্যমকে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
 
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড, দরিদ্র নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণে নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর কোনো সরকার এত অল্প সময়ে এত বেশি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
 
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারকে বিব্রত করার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
সাংবাদিকতায় নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম উল্লেখ করে নারী সাংবাদিকদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।
 
মাদকবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি সাংবাদিকদের মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানি বা জুলুমের শিকার না হন, সে বিষয়েও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।
 
সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা কারা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যারা সরকার পরিচালনার সুযোগ পায়নি, তারাই বিভিন্নভাবে সমালোচনা ও বিরোধিতা করছে।
 
ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশ এবং গণতন্ত্র চর্চার জন্য তিনি দেশটিকে সম্মান করেন। তবে সেখানে সংখ্যালঘুদের আরও নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
 
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতে কোনো ঘটনা ঘটলেই বাংলাদেশে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমনটি হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, জুলুম বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের আলাদা ইজতেমা আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে সরকার খুশি হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
 
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
Link copied!