প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম
1699
১৪ মে ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ পেতে তদবিরের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে তদবির করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি ব্যবস্থার দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার (২ মে) রাজধানীর শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক, পেশাজীবী এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি সমাজে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে তদবির প্রাধান্য পেলে সেখানে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “মেধা, সততা, পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা জাতি সামনে এগোতে পারে না।” তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে।
দেশের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণে উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ভেতরের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করে তিনি ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে যেখানে তদবির ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর প্রবণতা বেড়েছে, যা আগে এতটা প্রকট ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যে একটি রাজনৈতিক দল সংস্কারের বিরোধী। বাস্তবে সংস্কারের ধারাটি অতীত থেকেই চালু রয়েছে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং তাদের ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা জরুরি। অন্যথায় এটি ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা প্রয়াত অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের কর্মময় জীবন ও অবদান স্মরণ করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।