শুক্রবার ১৫, মে ২০২৬

১৫ মে ২০২৬, ০১:৩০ এএম

কিশোরগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

1705

কিশোরগঞ্জে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার হাওরাঞ্চলের কৃষকরা চরম ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ইটনা উপজেলায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জানায়, টানা বৃষ্টিতে হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে এককভাবে ইটনা উপজেলাতেই ডুবেছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। পেকে যাওয়া ধান ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এমন দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬১.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১৬০ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার সকালে কিছুটা রোদ ওঠায় পরিস্থিতি সাময়িক স্থিতিশীল মনে হলেও কৃষকদের আতঙ্ক কাটেনি।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “ইটনার ধনু-বৌলাই ও অষ্টগ্রামের কালনী নদীতে পানি বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে এবং ভৈরবের মেঘনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে উজানের চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, “মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা উপজেলা। ধান ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় সবজি ক্ষেতেও ক্ষয়ক্ষতির  আশঙ্কা রয়েছে।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে ধান কাটতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক জায়গায় শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আধাপাকা ধানও কাটতে পারছেন না তারা। হাওরাঞ্চলের কৃষকরা এখন দ্রুত পানি নেমে যাওয়া এবং সরকারি প্রণোদনার আশায় দিন গুনছেন।

Link copied!